৪৫/২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৪৯ - জাবিরের বাবার শহীদ মর্যাদা
জাবির (রাঃ)-এর বাবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু হারাম (রাঃ)-এর ফযিলত
জাবিরের বাবার শহীদ মর্যাদা ও ফেরেশতাদের ছায়া
সহীহ মুসলিম : ৬২৪৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২৪৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أُصِيبَ أَبِي يَوْمَ أُحُدٍ فَجَعَلْتُ أَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، وَأَبْكِي، وَجَعَلُوا يَنْهَوْنَنِي وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ لاَ يَنْهَانِي - قَالَ - وَجَعَلَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَمْرٍو تَبْكِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " تَبْكِيهِ أَوْ لاَ تَبْكِيهِ مَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার বাবা উহুদের দিবস শহীদ বলেন, আমি তাঁর মুখাবয়ব হতে বস্ত্র তুলি আর কাঁদি। ব্যক্তিরা আমাকে নিষেধ করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বারণ করেননি। আর ‘আম্রের মেয়ে ফাতিমাও তাঁর জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন: তুমি কাঁদো কিংবা না-ই কাঁদো, ফেরেশ্তাগণ তাঁর উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাঁকে তুলে নিয়েছো।
ই. ফা. ৬১৩১, ই. সে. ৬১৭৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ) নিজের বাবার শহীদ হওয়ার কথা বলেন। তিনি বাবার মুখ থেকে কাপড় সরাচ্ছিলেন এবং কাঁদছিলেন। লোকেরা তাঁকে নিষেধ করলেও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বারণ করেননি। একই সময় আমর-এর মেয়ে ফাতিমাও কাঁদছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তুমি কাঁদো বা না কাঁদো, ফেরেশতারা তাঁর উপর পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাঁকে তুলে নিয়েছ। এখানে শোকের মুহূর্তে শহীদের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসটি কান্নাকে কেন্দ্র করে নয়, বরং শহীদের সম্মান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া বিশেষ মর্যাদাকে সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শহীদের মর্যাদা পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পারে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জাবির (রাঃ)-এর কান্নাকে সরাসরি বারণ করেননি।
- ফেরেশতাদের ছায়া শহীদের বিশেষ সম্মানের নিদর্শন।
- বিপদের সময় নবীজির কথা মুমিনের হৃদয়ে ধৈর্য আনে।
