৪৫/৪৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৩১৯ - মর্যাদায় সন্তুষ্টির শিক্ষা
আনসারগণের উত্তম গৃহসমূহ।
আনসারদের গৃহ ও আল্লাহ-রাসূলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি
সহীহ মুসলিম : ৬৩১৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৩১৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، قَالَ شَهِدَ أَبُو سَلَمَةَ لَسَمِعَ أَبَا أُسَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ يَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الأَشْهَلِ ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ وَفِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ خَيْرٌ " . قَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَالَ أَبُو أُسَيْدٍ أُتَّهَمُ أَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ كُنْتُ كَاذِبًا لَبَدَأْتُ بِقَوْمِي بَنِي سَاعِدَةَ . وَبَلَغَ ذَلِكَ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فَوَجَدَ فِي نَفْسِهِ وَقَالَ خُلِّفْنَا فَكُنَّا آخِرَ الأَرْبَعِ أَسْرِجُوا لِي حِمَارِي آتِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَكَلَّمَهُ ابْنُ أَخِيهِ سَهْلٌ فَقَالَ أَتَذْهَبُ لِتَرُدَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْلَمُ أَوَلَيْسَ حَسْبُكَ أَنْ تَكُونَ رَابِعَ أَرْبَعٍ . فَرَجَعَ وَقَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ وَأَمَرَ بِحِمَارِهِ فَحُلَّ عَنْهُ .
আবূ উসায়দ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সালামাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন আনসারদের গৃহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে বানূ নাজ্জারের ঘর, এরপর বানূ আব্দুল আশহালের ঘর এরপর বানূ হারিস ইবনু খাযরাজের ঘর এরপর বানূ সা’ইদার ঘর। তাছাড়া প্রত্যেক আনসারীর গৃহেই কল্যাণ বিরাজ করছে। আবূ সালামাহ (রহঃ) বলেন, আবূ উসায়দ (রাঃ) বলেছেন আমি যদি মিথ্যাচার করতাম তাহলে আমি বংশ বানূ সা’ইদাহ দিয়ে আরম্ভ করতাম। তাতে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উপর অপবাদকারীরূপে গণ্য হতাম।ব্যাপারটি সা’দ ইবনু উবাদাহ(রাঃ) এর কাছে পৌছলে তিনি অস্বস্তিবোধ করলেন এবং তিনি বললেন, আমাদের পেছনে দেয়া হয়েছে। অতএব আমরা চার জনের মধ্যে চতুর্থ (শেষ) স্থান পড়ে গেছি। আমার গাধার পৃষ্ঠে গদি লাগাও আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট চলে যাব। তাঁর সাথে তাঁর ভাইয়ের ছেলে সাহলের কথোপকথন হচ্ছিল। সে বলেছিল, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট প্রতিবাদ জানানোর জন্য যাবেন বরং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সর্বাধিক জ্ঞাত? চার জনের মাঝে চতুর্থ হওয়া কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তখন তিনি থামলেন এবং বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। তারপর তিনি তাঁর গাধার জিন খুলতে নির্দেশ দিলেন এবং তা খুলে ফেলা হলো।
ই.ফা.৬১৯৭, ই.সে. ৬২৪৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৩১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনসারদের গৃহসমূহের মর্যাদা বিস্তারিতভাবে এসেছে। বানু নাজ্জার, বানু আবদুল আশহাল, বানু হারিস ইবনু খাযরাজ এবং বানু সাঈদার কথা বলা হয়েছে। আবু উসাইদ (রাঃ) বলেন, তিনি যদি মিথ্যা বলতেন, তবে নিজের বংশ বানু সাঈদা দিয়ে শুরু করতেন; কিন্তু তা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর অপবাদ হতো। এরপর সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ)-এর মন খারাপের ঘটনা আসে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যেতে চাইলে তাঁর ভাইয়ের ছেলে সাহল তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বেশি জানেন এবং চারটির মধ্যে থাকা যথেষ্ট সম্মান। সা’দ থেমে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। এই হাদিসে “আনসারদের গৃহের মর্যাদা” ও “সন্তুষ্টির শিক্ষা” মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য বর্ণনায় নিজের বংশের পক্ষপাত করা ঠিক নয়।
- মর্যাদার তালিকায় অবস্থান নিয়ে অস্থির না হয়ে সত্য গ্রহণ করা উচিত।
- আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জ্ঞানকে নিজের অনুভূতির ওপর স্থান দিতে হয়।
- ভালো পরামর্শ রাগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
