৪৭/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬২১ - চল্লিশ রাতের পর আকৃতি ও পরিণতি
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ
চল্লিশ রাতের পর সৃষ্টি, রিজিক ও পরিণতি
সহীহ মুসলিম : ৬৬২১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬২১
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ أَبُو خَيْثَمَةَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ، أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ خَالِدٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا الطُّفَيْلِ حَدَّثَهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي سَرِيحَةَ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ الْغِفَارِيِّ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأُذُنَىَّ هَاتَيْنِ يَقُولُ " إِنَّ النُّطْفَةَ تَقَعُ فِي الرَّحِمِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ يَتَصَوَّرُ عَلَيْهَا الْمَلَكُ " . قَالَ زُهَيْرٌ حَسِبْتُهُ قَالَ الَّذِي يَخْلُقُهَا " فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَذَكَرٌ أَوْ أُنْثَى فَيَجْعَلُهُ اللَّهُ ذَكَرًا أَوْ أُنْثَى ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ أَسَوِيٌّ أَوْ غَيْرُ سَوِيٍّ فَيَجْعَلُهُ اللَّهُ سَوِيًّا أَوْ غَيْرَ سَوِيٍّ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ مَا رِزْقُهُ مَا أَجَلُهُ مَا خُلُقُهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ اللَّهُ شَقِيًّا أَوْ سَعِيدًا " .
হুযাইফাহ্ ইবনু আসীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ সারীহাহ্ হুযাইফাহ্ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাঃ) -এর নিকট গেলে তিনি বলেন, আমি আমার এ কান দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, বীর্য জরায়ুতে চল্লিশ রাত স্থির থাকে। তারপর এজন ফেরেশতা তাকে আকৃতি প্রদান করেন। রাবী যুহায়র (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন, “যাকে তিনি তৈরি করেন” তখন তিনি বলতে থাকেন, হে আমার প্রভু! সে-কি পুরুষ না মহিলা? তারপর আল্লাহ তাকে পুরুষ কিংবা মহিলা সৃষ্টি করেন।অতঃপর তিনি (ফেরেশতা) বলতে থাকেন, হে আমার রব! আপনি তাকে পূর্ণ সৃষ্টি করবেন না অপূর্ণ? তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ অথবা অপূর্ণ সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি বলেন, হে আমার প্রভু! তার জীবনোপকরণ, মৃত্যুক্ষণ, চরিত্র কি হবে? তারপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে হতভাগ্যবান কিংবা সৌভাগ্যবান বানিয়ে দেন।
ই.ফা. ৬৪৮৭, ই.সে. ৬৫৩৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সারীহা হুযাইফা ইবন আসীদ আল গিফারী (রাঃ) বলেন, তিনি নিজ কানে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে শুনেছেন। বর্ণনায় আছে, বীর্য জরায়ুতে চল্লিশ রাত স্থির থাকে। এরপর ফেরেশতা তাকে আকৃতি প্রদান করেন। তারপর সে আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করে—সে পুরুষ না মহিলা হবে, পূর্ণ সৃষ্টি না অপূর্ণ, তার রিজিক, মৃত্যুক্ষণ ও চরিত্র কী হবে। এরপর আল্লাহ তাকে হতভাগ্য অথবা সৌভাগ্যবান করেন। এই হাদিসে গর্ভে সৃষ্টি ও তাকদীরের আলোচনা খুব স্পষ্ট। এখানে মানুষের শরীর, জীবনোপকরণ, আয়ু ও পরিণতি সবই আল্লাহর জ্ঞান ও আদেশের অধীন হিসেবে এসেছে। তাই এই বর্ণনা আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করায় এবং মানুষকে বিনয়ী করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের গঠন ও আকৃতি আল্লাহর আদেশে হয়।
- রিজিক, আয়ু ও চরিত্রের বিষয় তাকদীরের সঙ্গে যুক্ত।
- গর্ভের অদৃশ্য বিষয়ও আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।
- এই হাদিস মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে শেখায়।
