৪৭/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬২৬ - ভরসা নয়, আমল করতে থাকো
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ
ভরসা করে বসো না: তাকদীরের সঙ্গে আমলের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৬৬২৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬২৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ جَالِسًا وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ نَفْسٍ إِلاَّ وَقَدْ عُلِمَ مَنْزِلُهَا مِنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلِمَ نَعْمَلُ أَفَلاَ نَتَّكِلُ قَالَ " لاَ . اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ " . ثُمَّ قَرَأَ { فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى} إِلَى قَوْلِهِ { فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى}
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক টুকরা লাকড়ি হাতে নিয়ে বসে ছিলেন। তিনি তা দ্বারা জমিনে টোকা দিচ্ছিলেন। তারপর তিনি নিজের মাথা উঠালেন এবং বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে তার ঠিকানা জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্ধারিত নেই। তাঁরা সকলে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাহলে আমরা কেন কাজ-কর্ম করব? আমরা কি ভরসা করব না? তিনি (ﷺ) বললেন, না, বরং তোমরা আমল করতে থাকো। যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ করা হয়েছে।তারপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং যারা দান-সদাকাহ্ করল, তাক্ওয়া অর্জন করল এবং যা ভাল তা সত্যায়ন করল, ….. ….. আমি কঠোর পরিণামের পথ সহজ করে দিব, এ পর্যন্ত”- (সূরা আল লায়ল ৯২ : ৫-১০)।
ই.ফা. ৬৪৯২, ই.সে. ৬৫৪৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাতে একটি লাকড়ি নিয়ে বসে ছিলেন এবং তা দিয়ে জমিনে টোকা দিচ্ছিলেন। তিনি মাথা তুলে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত নেই। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আমরা কেন কাজ করব, আমরা কি ভরসা করে বসে থাকব না? নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, না; বরং তোমরা আমল করতে থাকো। যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার জন্য সহজ করা হয়েছে। এরপর তিনি সূরা আল-লায়লের আয়াত পাঠ করলেন। এই হাদিস তাকদীর ও আমলের ভারসাম্য শেখায়। ভাগ্যলিপির কথা সত্য, কিন্তু তা আমল ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত নয়। মুমিনের কাজ হলো দান, তাকওয়া, সত্যায়ন ও ভালো আমলের পথে চলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীরের ওপর ভর করে আমল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে আমল করতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
- যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার জন্য সহজ করা হয়।
- দান, তাকওয়া ও সত্যকে মানা ভালো পথের সঙ্গে যুক্ত।
