৪৭/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬৩৭ - আদম-মূসা বিতর্কের বিস্তারিত বর্ণনা
আদাম (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা
আদম-মূসার বিতর্ক: তাওরাত ও তাকদীরের কথা
সহীহ মুসলিম : ৬৬৩৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬৩৭
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ أَبِي ذُبَابٍ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ هُرْمُزَ - وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ قَالاَ سَمِعْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ عِنْدَ رَبِّهِمَا فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى قَالَ مُوسَى أَنْتَ آدَمُ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلاَئِكَتَهُ وَأَسْكَنَكَ فِي جَنَّتِهِ ثُمَّ أَهْبَطْتَ النَّاسَ بِخَطِيئَتِكَ إِلَى الأَرْضِ فَقَالَ آدَمُ أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلاَمِهِ وَأَعْطَاكَ الأَلْوَاحَ فِيهَا تِبْيَانُ كُلِّ شَىْءٍ وَقَرَّبَكَ نَجِيًّا فَبِكَمْ وَجَدْتَ اللَّهَ كَتَبَ التَّوْرَاةَ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ قَالَ مُوسَى بِأَرْبَعِينَ عَامًا . قَالَ آدَمُ فَهَلْ وَجَدْتَ فِيهَا { وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} قَالَ نَعَمْ . قَالَ أَفَتَلُومُنِي عَلَى أَنْ عَمِلْتُ عَمَلاً كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَىَّ أَنْ أَعْمَلَهُ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ) তাঁদের রবের নিকট ঝগড়া করলেন।৫ অতঃপর আদাম (‘আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন। মূসা (‘আঃ) বললেন, আপনি তো সে আদাম (‘আঃ) যাকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ হস্তে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে তিনি তাঁর রূহকে ফুঁকে দিয়েছেন, তিনি তাঁর ফেরেশ্তাদের দিয়ে আপনাকে সাজদাহ্ করিয়েছেন এবং তাঁর জান্নাতে আপনাকে আবাসন করে দিয়েছেন। তারপর আপনি আপনার ভুলের কারণে মানবজাতিকে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন?এরপর আদাম (‘আঃ) বললেন, আপনি তো সে মূসা (‘আঃ) যাকে আল্লাহ তা‘আলা রিসালাত দিয়েছেন তাঁর সাথে কথা বলার জন্য বাছাই করেছেন এবং আপনাকে দান করেছেন তক্তিসমূহ, তাতে সব বিষয়ের বর্ণনা লিখিত রয়েছে এবং নির্জনে আলাপচারিতার জন্যে নৈকট্য দান করেছেন। সুতরাং আমার জন্মের কত বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছেন তা-কি আপনি দেখেছেন? মূসা (‘আঃ) বললেন, চল্লিশ বৎসর পূর্বে।আদাম (‘আঃ) বললেন, আপনি কি তাতে পাননি- ‘আদাম তাঁর রবের আদেশ অমান্য করেছেন এবং পথভ্রষ্ট হয়েছেন’। আদাম (‘আঃ) বললেন, এরপর আপনি আমাকে আমার এমন কর্মের জন্য কেন ভর্ৎসনা করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা আমার উপর লিখে রেখেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এরপর আদাম (‘আঃ) মূসা (‘আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।
৫ আবুল হাসান কাবিসী (রহঃ) বলেন, আকাশমণ্ডলীতে আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর রূহ পরস্পর সাক্ষাৎ হয় এবং তাঁদের মধ্যে বিতর্ক হয়। কাযী ‘আয়ায (রহঃ) বলেন, এ সম্ভাবনাও থেকে যায় যে, উভয়েই স্বশরীরে সাক্ষাতে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন।ই.ফা. ৬৫০৩, ই.সে. ৬৫৫৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর বাদানুবাদের বিস্তারিত রূপ এসেছে। মূসা (আঃ) আদম (আঃ)-এর মর্যাদা উল্লেখ করেন—আল্লাহ তাঁকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে সিজদা করিয়েছেন এবং জান্নাতে রেখেছেন। তারপর তিনি বলেন, আপনার ভুলের কারণে মানবজাতি দুনিয়ায় নেমেছে। আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দেন—আল্লাহ তাঁকে রিসালাত দিয়েছেন, তাঁর সাথে কথা বলেছেন এবং তক্তিতে সব বিষয়ের বর্ণনা দিয়েছেন। এরপর আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করেন, তাওরাত তাঁর জন্মের কত বছর আগে লেখা হয়েছিল? মূসা (আঃ) বলেন, চল্লিশ বছর আগে। তখন আদম (আঃ) বলেন, তাতে কি তাঁর রবের আদেশ অমান্যের কথা পাওয়া যায়নি? শেষে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর মর্যাদা হাদিসে আলাদা করে এসেছে।
- তাওরাতের লিখন ও তাকদীরের বিষয় একই আলোচনায় এসেছে।
- আদম (আঃ)-এর ঘটনার পূর্বনির্ধারণের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم এ কথোপকথনের ফল হিসেবে আদম (আঃ)-এর জয় উল্লেখ করেছেন।
