৫০/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯১২ - তিনজনের তওবা ও তাবুকের শিক্ষা
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ও তাঁর দু’ সাথীর তাওবার বিবরণ
তিন সাহাবীর তওবা ও কা‘বের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৬৯১২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯১২
وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، - وَهُوَ ابْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ حِينَ أُصِيبَ بَصَرُهُ وَكَانَ أَعْلَمَ قَوْمِهِ وَأَوْعَاهُمْ لأَحَادِيثِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ وَهُوَ أَحَدُ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ يُحَدِّثُ أَنَّهُ لَمْ يَتَخَلَّفْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا قَطُّ غَيْرَ غَزْوَتَيْنِ .وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ وَغَزَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِنَاسٍ كَثِيرٍ يَزِيدُونَ عَلَى عَشْرَةِ آلاَفٍ وَلاَ يَجْمَعُهُمْ دِيوَانُ حَافِظٍ .
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু কা‘ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
কা‘ব (রাঃ) চক্ষু রোগে আক্রান্ত হবার পর ‘উবাইদুল্লাহ তাঁকে পরিচালন করতেন। তিনি তাঁর কাওমের মাঝে সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান লোক ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের হাদীস বেশি হিফাযাতকারী ছিলেন। তিনি বলেনঃ যে তিনজন লোকের তাওবা গ্রহণ করেছিলেন, আমার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ঐ তিন লোকের অন্যতম ছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যত যুদ্ধ করেছেন এর মধ্যে তিনি দুটি ছাড়া আর কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পেছনে থাকেননি।তারপর তিনি পূর্বের অনুরূপ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বহু সৈন্য সামন্ত নিয়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের সংখ্যা দশ হাজারের চেয়েও বেশি ছিল। কোন তালিকায় তাঁদের নাম লিখে রাখা ছিল না।
ই.ফা. ৬৭৬২, ই.সে. ৬৮১৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কা‘ব ইবনু মালিক রাঃ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন সেই তিনজনের একজন যাদের তওবা আল্লাহ কবুল করেছিলেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুদ্ধগুলোর মধ্যে মাত্র দুইটি ছাড়া অন্য কোনো যুদ্ধে পিছিয়ে থাকেননি। তাবুক যুদ্ধের সময় মুসলিমদের সংখ্যা ছিল অনেক, দশ হাজারেরও বেশি, এবং তাদের নাম কোনো পূর্ণ তালিকায় লেখা ছিল না। এই তথ্য ঘটনাটির বড়ত্ব বোঝায়। কা‘ব রাঃ নিজের ভুল ঢাকেননি। তিনি সত্য বলেছিলেন এবং আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষা করেছিলেন। তাই এই হাদিসে তওবা, সত্যবাদিতা, যুদ্ধের দায়িত্ব এবং নিজের কাজের হিসাব—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দীর্ঘ ভালো আমল থাকা সত্ত্বেও মানুষ ভুল করতে পারে।
- ভুলের পর সত্য বলা তওবার পথে বড় সহায়।
- বড় কাজের সময় দায়িত্ববোধ আরও জরুরি।
- আল্লাহর কবুল করা তওবা বান্দার জন্য বড় দয়া।
