৫২/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯৫০ - জান্নাতবাসীর আতিথেয়তা
জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা
জান্নাতবাসীর আতিথেয়তা নিয়ে হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৬৯৫০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯৫০
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ «تَكُونُ الأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُبْزَةً وَاحِدَةً يَكْفَؤُهَا الْجَبَّارُ بِيَدِهِ كَمَا يَكْفَأُ أَحَدُكُمْ خُبْزَتَهُ فِي السَّفَرِ نُزُلاً لأَهْلِ الْجَنَّةِ " .قَالَ فَأَتَى رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالَ بَارَكَ الرَّحْمَنُ عَلَيْكَ أَبَا الْقَاسِمِ أَلاَ أُخْبِرُكَ بِنُزُلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ «بَلَى». قَالَ تَكُونُ الأَرْضُ خُبْزَةً وَاحِدَةً - كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ - قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ قَالَ أَلاَ أُخْبِرُكَ بِإِدَامِهِمْ قَالَ «بَلَى». قَالَ إِدَامُهُمْ بَالاَمُ وَنُونٌ . قَالُوا وَمَا هَذَا قَالَ ثَوْرٌ وَنُونٌ يَأْكُلُ مِنْ زَائِدَةِ كَبِدِهِمَا سَبْعُونَ أَلْفًا .>
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সমস্ত ভূখণ্ড কিয়ামাতের দিন একটি রুটির মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ সেটি নিজ হাতে এপাশ-ওপাশ করবেন, যেমন তোমাদের মাঝে কেউ সফরের সময় নিজ রুটি এপাশ-ওপাশ করে। এ দিয়ে হবে জান্নাতবাসীর জন্য আতিথেয়তা। এমন সময় এক ইয়াহূদী লোক এসে বলল, হে আবুল কাসিম! রহ্মান আপনার প্রতি বারাকাত দান করুন। কিয়ামাতের দিন জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা সম্পর্কে আপনাকে জানাব কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইয়াহূদী বলল, ‘এ পৃথিবীটি একটি রুটির রূপ ধারণ করবে,’ যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন।রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে লক্ষ্য করে এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর মাড়ির মুবারক দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল। ইয়াহূদী বলল, তাদের তরকারি কি হবে তা কি আপনাকে বলল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, বালাম এবং নূন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, তা কি? সে বলল ষাঁড় এবং মাছ- যাদের কলিজার বাড়তি অংশ থেকে সত্তর হাজার লোক আহার করতে পারবে।
ই.ফা. ৬৮০০, ই.সে. ৬৮৫৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের এক বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেয়ামতের দিন পুরো পৃথিবী একটি রুটির মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ সেটিকে নিজ হাতে এপাশ-ওপাশ করবেন, যেমন সফরের সময় কেউ নিজের রুটি উল্টায়। এটি জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তার জন্য হবে। এরপর এক ইহুদি ব্যক্তি এসে একই কথা বলে এবং জান্নাতবাসীদের খাদ্যের তরকারি সম্পর্কে বর্ণনা করে—বালাম ও নূন, অর্থাৎ ষাঁড় ও মাছ। হাদিসে আরও এসেছে, তাদের কলিজার বাড়তি অংশ থেকে সত্তর হাজার লোক আহার করতে পারবে। এখানে জান্নাতবাসীর সম্মান, আল্লাহর দান এবং কেয়ামতের ভিন্ন বাস্তবতার কথা উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিনের অবস্থা দুনিয়ার সাধারণ নিয়মের মতো হবে না।
- জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ আতিথেয়তার কথা এসেছে।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم কেয়ামত ও জান্নাতের বিষয় স্পষ্টভাবে শিক্ষা দিয়েছেন।
- আখিরাতের দান ও সম্মান দুনিয়ার মাপে পুরোপুরি বোঝা যায় না।
