৫৪/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৩২ - কা’বার বাহিনী ও নিয়তের বিচার
বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে (যুদ্ধ) অগ্রগামী সেনাদল মাটিতে ধ্বসে যাবে
কা’বার বাহিনী ও নিয়ত অনুযায়ী বিচার
সহীহ মুসলিম : ৭১৩২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১৩২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنِ الْقِبْطِيَّةِ،قَالَ دَخَلَ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ وَأَنَا مَعَهُمَا، عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فَسَأَلاَهَا عَنِ الْجَيْشِ الَّذِي يُخْسَفُ بِهِ وَكَانَ ذَلِكَ فِي أَيَّامِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَعُوذُ عَائِذٌ بِالْبَيْتِ فَيُبْعَثُ إِلَيْهِ بَعْثٌ فَإِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ خُسِفَ بِهِمْ». فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ كَانَ كَارِهًا قَالَ «يُخْسَفُ بِهِ مَعَهُمْ وَلَكِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى نِيَّتِهِ " . وَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ هِيَ بَيْدَاءُ الْمَدِينَةِ .
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু কিব্তিয়্যাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হারিস ইবনু আবূ রাবী‘আহ্ এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাফওয়ান (রহঃ) দু’জনেই উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে ছিলাম। তাঁরা তাঁকে ঐ বাহিনী সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন, যারা ভূমিতে ধ্বসে যাবে। তখন ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর খিলাফাতকাল ছিল। উত্তরে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক আশ্রয় গ্রহণকারী বাইতুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তখন তার বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করা হবে। তারা যখন “বাইদা” নামক এক মাঠে অবস্থান নিবে তখন তারা ভূমিতে ধ্বসে যাবে।এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ লোকের ব্যাপারে এ কি করে প্রযোজ্য হতে পারে যে অসন্তুষ্ট হৃদয়ে এ অভিযানে শামিল হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, তাদের সঙ্গে তাঁকে সহ ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তবে কিয়ামতের দিন তার উত্থান হবে স্বীয় নিয়তের ভিত্তিতে। বর্ণনাকারী আবূ জা‘ফার (রহঃ) বলেন, এ “বাইদা” হলো মাদীনার নিকটবর্তী স্থান।
ই.ফা. ৬৯৭৬, ই.সে. ৭০৩৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক আশ্রয় গ্রহণকারীর কথা এসেছে, যে বাইতুল্লাহ শরীফে আশ্রয় নেবে। তার বিরুদ্ধে একটি বাহিনী পাঠানো হবে। তারা বাইদা নামের ময়দানে পৌঁছালে ভূমিতে ধ্বসে যাবে। প্রশ্ন করা হলো, যে ব্যক্তি মন থেকে রাজি নয় কিন্তু ওই দলে আছে, তার কী হবে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, তাকেও তাদের সঙ্গে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে; তবে কিয়ামতের দিন তার উত্থান হবে নিজের নিয়তের ভিত্তিতে। এই হাদিসে নিয়তের গুরুত্ব খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। দুনিয়ায় মানুষ অনেক সময় একই ঘটনার মধ্যে পড়ে, কিন্তু আল্লাহর কাছে প্রত্যেকের ভেতরের ইচ্ছা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। তাই কা’বার বাহিনী, ভূমিধস এবং নিয়তের বিচার—এই তিনটি বিষয় এখানে মূল শিক্ষা হিসেবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই বাহিনীতে থাকা সত্ত্বেও কিয়ামতে মানুষ নিজের নিয়ত অনুযায়ী উঠবে।
- অন্যায় কাজে যুক্ত হওয়া বিপদের কারণ হতে পারে, যদিও কারও মন তাতে রাজি না থাকে।
- আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক অবস্থার সঙ্গে অন্তরের নিয়তও জানেন।
- বাইতুল্লাহর বিরুদ্ধে অন্যায় পদক্ষেপ গুরুতর সতর্কতার বিষয়।
