৫৪/১৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৭৭ - কেয়ামতের দশটি বড় আলামত

কিয়ামতের আগে যেসব নিদর্শন দৃশ্য হবে

কেয়ামতের দশটি বড় আলামত: সহীহ বর্ণনা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ فُرَاتٍ، الْقَزَّازِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ اطَّلَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ ‏"‏ مَا تَذَاكَرُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلاَثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ ‏.

হুযাইফাহ্‌ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন আমরা (বিভিন্ন বিষয়ে) আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছ? উত্তরে তাঁরা বললেন, আমরা কিয়ামতের ব্যাপারে আলোচনা করছি। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বিশেষ আলামত দেখবে।তারপর তিনি ধূম্র, দজ্জাল, দাব্বা, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ, ইয়া‘জূজ মা‘জূজ এবং তিনবার ভূখণ্ড ধ্বসে যাওয়া তথা পূর্ব দিকে ভূখণ্ড ধ্বস, পশ্চিম দিকে ভূখণ্ড ধ্বস এবং আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বসের কথা বর্ণনা করলেন। এ আলামতসমূহের পর এক অগ্নুৎপাতের প্রকাশিত হবে, যা তাদেরকে ইয়ামান থেকে হাশরের মাঠ পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

ই.ফা. ৭০২১, ই.সে. ৭০৭৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৭৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবিরা কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এসে জিজ্ঞেস করলেন, তারা কী নিয়ে আলোচনা করছে। তারা বললেন, কেয়ামত নিয়ে। তখন তিনি জানান, কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তার আগে দশটি আলামত দেখা যাবে। এরপর ধোঁয়া, দাজ্জাল, দাব্বাহ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, মারইয়াম পুত্র ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজ, পূর্বে ভূখণ্ড ধস, পশ্চিমে ভূখণ্ড ধস, আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধস এবং শেষে ইয়ামান থেকে আগুন বের হয়ে মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নেওয়ার কথা এসেছে। এই হাদিস কেয়ামতের বড় আলামত বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল শিক্ষা হলো—কেয়ামত নিয়ে আলোচনা জ্ঞানের সঙ্গে হবে, অনুমান বা আতঙ্ক দিয়ে নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কেয়ামতের আগে কিছু বড় আলামত দেখা যাবে—হাদিসে তা স্পষ্টভাবে এসেছে।
  • কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করতে হলে সহীহ বর্ণনার উপর নির্ভর করা দরকার।
  • দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ ও ঈসা আঃ-এর অবতরণ বড় আলামতের মধ্যে আছে।
  • শেষে আগুন মানুষকে একত্র করার কথা হাদিসে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন