৫৪/১৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৭৮ - কেয়ামতের আলামত ও আদনের আগুন

কিয়ামতের আগে যেসব নিদর্শন দৃশ্য হবে

কেয়ামতের বড় আলামত ও আদনের আগুন

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১৭৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ، حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي غُرْفَةٍ وَنَحْنُ أَسْفَلَ مِنْهُ فَاطَّلَعَ إِلَيْنَا فَقَالَ ‏"‏ مَا تَذْكُرُونَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا السَّاعَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ السَّاعَةَ لاَ تَكُونُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَالدُّخَانُ وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الأَرْضِ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنَارٌ تَخْرُجُ مِنْ قُعْرَةِ عَدَنٍ تَرْحَلُ النَّاسَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ ‏.‏ مِثْلَ ذَلِكَ لاَ يَذْكُرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَحَدُهُمَا فِي الْعَاشِرَةِ نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَقَالَ الآخَرُ وَرِيحٌ تُلْقِي النَّاسَ فِي الْبَحْرِ ‏.‏

আবূ সারীহাহ্‌ হুযাইফাহ্‌ ইবনু আসীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন নবী (ﷺ) স্বীয় কক্ষে ছিলেন। আর আমরা তাঁর নীচে বসে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি আমাদের নিকট আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছিলে। আমরা বললাম, কিয়ামত সম্বন্ধে কথা বলছিলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত প্রকাশিত হবে।পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ভূখণ্ড ধ্বস, পশ্চিমপ্রান্তে ভূখণ্ড ধ্বস, আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বস, ধূয়া ছড়িয়ে পড়া, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ, দাব্বাতুল আর্‌য প্রকাশ পাওয়া, ইয়া‘জূজ-মা‘জূজ বের হওয়া, পশ্চিমপ্রান্ত হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং সর্বশেষ “আদ্‌ন” দেশের প্রান্ত হতে আগুন উত্থিত হবে যা লোকেদেরকে তাড়িয়ে এক স্থানে একত্রিত করবে। শু‘বাহ্‌ (রহঃ) বলেন, এ বর্ণনায় দশম আলামতের কথা নেই। তবে অন্য বর্ণনাই দশম আলামত হিসেবে কোথাও ‘ঈসা (আঃ)-এর অবতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে, আবার কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বশেষ এমন দমকা হাওয়া প্রবাহিত হবে, যা মানুষকে উড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে।

ই.ফা. ৭০২২, ই.সে. ৭০৭৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৭৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবিরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কক্ষের নিচে বসে কেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم এসে তাদের প্রশ্ন করেন, তারা কী নিয়ে কথা বলছে। তারা বলেন, কেয়ামত নিয়ে। তখন তিনি বলেন, কেয়ামত হবে না যতক্ষণ না দশটি আলামত প্রকাশ পায়। এ বর্ণনায় পূর্বে, পশ্চিমে ও আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধস, ধোঁয়া, দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ, ইয়াজুজ-মাজুজ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য ওঠা এবং আদনের প্রান্ত থেকে আগুন বের হয়ে মানুষকে একত্র করার কথা এসেছে। বর্ণনাকারী শু‘বাহ (রহঃ) জানান, এ বর্ণনায় দশম আলামত নিয়ে ভিন্ন কথা এসেছে—কোথাও ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ, কোথাও প্রবল বাতাসের কথা। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, কেয়ামতের আলামত বুঝতে বর্ণনার ভাষা ও পার্থক্য সতর্কভাবে দেখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কেয়ামতের আলামত নিয়ে সহীহ বর্ণনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
  • একই বিষয়ের বর্ণনায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে; তা সতর্কভাবে বুঝতে হয়।
  • দাজ্জাল, দাব্বাহ, ইয়াজুজ-মাজুজ ও আগুন বড় আলামতের মধ্যে এসেছে।
  • কেয়ামত নিয়ে আলোচনা ভয়ের সঙ্গে নয়, জ্ঞানের সঙ্গে হওয়া উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন