৪/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৩৬ - আযানের জবাব দিলে জান্নাত
মুওয়ায্যিনের আযান অনুরূপ শ্রবণকারীর বলা, নাবী(ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা এবং তাঁর জন্যে ওয়াসীলাহ্ প্রার্থনা করা
আযানের জবাবের নিয়ম: লা হাওলা কখন বলতে হয়
সহীহ মুসলিম : ৭৩৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৩৬
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ جَهْضَمٍ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسَافٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ . فَقَالَ أَحَدُكُمُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ . ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ . قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ . ثُمَّ قَالَ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ . قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ . ثُمَّ قَالَ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ . قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ . ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ . قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ . ثُمَّ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুয়াজ্জিন যখন “আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার” বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ “আল্লহু আকবার, আল্ল-হু আকবার”। যখন মুয়াজ্জিন বলেঃ “আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর জবাবে সেও বলেঃ “আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। অতঃপর মুয়াজ্জিন বলে: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লা-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্ল-হ্’।অতঃপর মুয়াজ্জিন বলেঃ “হাইয়্যা ‘আলাস সলা-হ্” এর জবাবে সে বলেঃ “লা-হাওলা ওয়ালা-কুও্ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”। অতঃপর মুয়াজ্জিন বলেঃ “হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ্” এর জবাবে সে বলেঃ “লা-হাওলা ওয়ালা-কুও্ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”। অতঃপর মুয়াজ্জিন বলেঃ “আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার” এর জবাবে সে বলেঃ “আল্ল-হু আকবর, আল্ল-হু আকবার”। অতঃপর মুয়াজ্জিন বলেঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে।
ই. ফা. ৭৩৪, ই. সে. ৭৪৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আযানের জবাব বিস্তারিতভাবে শেখানো হয়েছে। মুয়াজ্জিন “আল্লাহু আকবার” বললে শ্রোতাও “আল্লাহু আকবার” বলবে। শাহাদাতের বাক্য শুনলে সেও একই সাক্ষ্য দেবে। তবে যখন মুয়াজ্জিন “হাইয়া আলাস সালাহ” ও “হাইয়া আলাল ফালাহ” বলবে, তখন শ্রোতা বলবে “লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। এরপর আবার “আল্লাহু আকবার” ও “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্তর থেকে এভাবে জবাব দেয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই আযানের জবাব শুধু মুখের কথা নয়; এখানে আন্তরিকতার কথাও স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযানের প্রতিটি বাক্যের জবাব মনোযোগ দিয়ে দেওয়া উচিত।
- হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ শুনে লা হাওলা বলা শেখানো হয়েছে।
- আযানের জবাবে অন্তরের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
- তাওহীদের বাক্য আযানের মূল অংশ হিসেবে বারবার এসেছে।
