৫৫/১৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৪০৮ - কবরের আযাব লাঘবের ঘটনা
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা
কবরের আযাব ও নবীজির শাফা’আতের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৭৪০৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৪০৮
سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى نَزَلْنَا وَادِيًا أَفْيَحَ فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَاتَّبَعْتُهُ بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا يَسْتَتِرُ بِهِ فَإِذَا شَجَرَتَانِ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى إِحْدَاهُمَا فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ " انْقَادِي عَلَىَّ بِإِذْنِ اللَّهِ " . فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَالْبَعِيرِ الْمَخْشُوشِ الَّذِي يُصَانِعُ قَائِدَهُ حَتَّى أَتَى الشَّجَرَةَ الأُخْرَى فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ " انْقَادِي عَلَىَّ بِإِذْنِ اللَّهِ " . فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْمَنْصَفِ مِمَّا بَيْنَهُمَا لأَمَ بَيْنَهُمَا - يَعْنِي جَمَعَهُمَا - فَقَالَ " الْتَئِمَا عَلَىَّ بِإِذْنِ اللَّهِ " . فَالْتَأَمَتَا قَالَ جَابِرٌ فَخَرَجْتُ أُحْضِرُ مَخَافَةَ أَنْ يُحِسَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِقُرْبِي فَيَبْتَعِدَ - وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ فَيَتَبَعَّدَ - فَجَلَسْتُ أُحَدِّثُ نَفْسِي فَحَانَتْ مِنِّي لَفْتَةٌ فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُقْبِلاً وَإِذَا الشَّجَرَتَانِ قَدِ افْتَرَقَتَا فَقَامَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا عَلَى سَاقٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَقَفَ وَقْفَةً فَقَالَ بِرَأْسِهِ هَكَذَا - وَأَشَارَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ بِرَأْسِهِ يَمِينًا وَشِمَالاً - ثُمَّ أَقْبَلَ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَىَّ قَالَ «يَا جَابِرُ هَلْ رَأَيْتَ مَقَامِي» . قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «فَانْطَلِقْ إِلَى الشَّجَرَتَيْنِ فَاقْطَعْ مِنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا غُصْنًا فَأَقْبِلْ بِهِمَا حَتَّى إِذَا قُمْتَ مَقَامِي فَأَرْسِلْ غُصْنًا عَنْ يَمِينِكَ وَغُصْنًا عَنْ يَسَارِكَ» .قَالَ جَابِرٌ فَقُمْتُ فَأَخَذْتُ حَجَرًا فَكَسَرْتُهُ وَحَسَرْتُهُ فَانْذَلَقَ لِي فَأَتَيْتُ الشَّجَرَتَيْنِ فَقَطَعْتُ مِنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا غُصْنًا ثُمَّ أَقْبَلْتُ أَجُرُّهُمَا حَتَّى قُمْتُ مَقَامَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَرْسَلْتُ غُصْنًا عَنْ يَمِينِي وَغُصْنًا عَنْ يَسَارِي ثُمَّ لَحِقْتُهُ فَقُلْتُ قَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَعَمَّ ذَاكَ قَالَ " إِنِّي مَرَرْتُ بِقَبْرَيْنِ يُعَذَّبَانِ فَأَحْبَبْتُ بِشَفَاعَتِي أَنْ يُرَفَّهَ عَنْهُمَا مَا دَامَ الْغُصْنَانِ رَطْبَيْنِ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে পুনরায় আমরা পথ অতিক্রম করতে লাগলাম। এমন সময় আমরা এক প্রশস্ত উপত্যকায় অবস্থান নিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শৌচকার্যের জন্য গমন করলেন, আমিও পানির পাত্র নিয়ে তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টিপাত করলেন; কিন্তু আড়াল করার মতো কিছুই পেলেন না। হঠাৎ পাহাড়ের এক প্রান্তে দু’টি গাছ দেখতে পেলেন। তাই তিনি এর একটির সন্নিকটে গেলেন এবং এর একটি ডাল ধরে বললেন, আল্লাহর আদেশে তুমি আমার অনুগত হয়ে যাও। তখন ডালটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনুগত্য স্বীকার (ঝুঁকে পড়ল) করে নিল, লাগাম পরিহিত ঐ উটের মতো যা তার চালকের অনুসরণ করে।তারপর তিনি দ্বিতীয় গাছটির কাছে এসে এর একটি ডাল ধরে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তুমি আমার অনুগত হয়ে যাও। এটিও অনুরূপ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে নিল। অতঃপর তিনি যখন উভয় বৃক্ষের মাঝখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি ডাল দু’টো এক সাথে মিলিয়ে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তোমরা আমার সম্মুখে সমবেত হয়ে যাও, মিলে যাও। তারা উভয়েই মিলে গেল।জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি এ ভয়ে দৌড়িয়ে চলে এলাম যে, না জানি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সন্নিকটে হবার বিষয়টি জেনে ফেলেন এবং আরো দূরে চলে যান। ইবনু ‘আব্বাদ (রহঃ) فَيَبْتَعِدَ.. –এর স্থলে فَيَتَبَعَّدَ. উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ “দূরে সরে যান”। অতঃপর আমি বসে মনে মনে কিছু বলছিলাম। এমতাবস্থায় দৃষ্টি উঠিয়েই আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখ দিক হতে এগিয়ে আসছেন। উভয় বৃক্ষই তখন পৃথক হয়ে প্রত্যেকটি স্বীয় কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে ছিল।এরপর আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাথা দ্বারা ডানে ও বামে ইঙ্গিত করলেন। এ স্থলে বর্ণনাকারী আবূ ইসমা‘ঈলও তার মাথা দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। তারপর তিনি সম্মুখে এগিয়ে এসে আমার পর্যন্ত পৌঁছে আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি তো আমার অবস্থানের স্থান দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ; হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তখন তিনি বললেন, তুমি ঐ গাছ দু’টির কাছে গমন কর এবং তাদের প্রত্যেকটির একটি করে ডাল কেটে নিয়ে এসো। এরপর তুমি আমার এ স্থানে পৌঁছে একটি ডাল ডান দিকে এবং অপরটি বাম দিকে রেখে দিবে।জাবির (রাঃ) বলেন, আমি উঠলাম এবং একটি পাথর হাতে নিয়ে সেটাকে ভেঙ্গে ধারালো করলাম। ফলে তা ভীষণ ধারালো হলো। অতঃপর আমি গাছ দু’টির কাছে আসলাম এবং প্রত্যেকটি বৃক্ষ হতে এক একটি করে ডাল কাটলাম। তারপর ডাল দু’টো হেঁচড়িয়ে নিয়ে আমি রওনা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অবস্থান স্থলে পৌঁছে একটি ডাল আমার ডান পাশে এবং অন্য ডালটি আমার বাম পাশে রেখে দিলাম।তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা বলেছেন আমি তা পূরণ করেছি। তবে এর কারণ কি? উত্তরে তিনি বললেন, দু‘টি কবরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম কালে আমি দেখেছি, তাদের কবরে শাস্তি হচ্ছে। আমি তাদের জন্য সুপারিশ করার ইচ্ছা করছি। সম্ভবতঃ তাদের এ ‘আযাবকে কমিয়ে দিবে, যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল দু’টো সতেজ থাকবে।
ই.ফা. ৭২৪০, ই.সে. ৭২৯৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৪০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রাঃ-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সফরের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি শৌচকার্যের জন্য আড়াল খুঁজছিলেন, কিন্তু কিছু পাননি। আল্লাহর হুকুমে দুইটি গাছ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে কাছে আসে এবং পরে আবার নিজ নিজ জায়গায় ফিরে যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জাবির রাঃ-কে দুই গাছ থেকে ডাল এনে তাঁর দাঁড়ানোর জায়গার ডানে ও বামে রাখতে বলেন। কারণ তিনি দুইটি কবরের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে দেখেছিলেন, তাদের কবরের আযাব হচ্ছে। তিনি তাদের জন্য শাফা’আত করতে চাইলেন এবং বললেন, ডাল দুইটি সতেজ থাকা পর্যন্ত হয়তো তাদের আযাব হালকা করা হবে। এখানে কবরের আযাব, নবীজির দয়া এবং আল্লাহর অনুমতিতে ঘটিত বিশেষ ঘটনার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবরের আযাব বাস্তব বিষয় হিসেবে হাদিসে এসেছে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উম্মতের প্রতি দয়ালু ছিলেন এবং আযাব লাঘবের জন্য শাফা’আত চেয়েছেন।
- আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু ঘটে না—গাছের নড়াচড়াও আল্লাহর হুকুমে হয়েছিল।
- কবর ও আখিরাতের বিষয়ে উদাসীন না হয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
