৫৫/১৮. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৪০৯ - নবীজির হাতে পানির বরকত

জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা

সামান্য পানিতে নবীজির বরকতের ঘটনা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৪০৯

قَالَ فَأَتَيْنَا الْعَسْكَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا جَابِرُ نَادِ بِوَضُوءٍ» . فَقُلْتُ أَلاَ وَضُوءَ أَلاَ وَضُوءَ أَلاَ وَضُوءَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا وَجَدْتُ فِي الرَّكْبِ مِنْ قَطْرَةٍ وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُبَرِّدُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ الْمَاءَ فِي أَشْجَابٍ لَهُ عَلَى حِمَارَةٍ مِنْ جَرِيدٍ قَالَ فَقَالَ لِيَ " انْطَلِقْ إِلَى فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ الأَنْصَارِيِّ فَانْظُرْ هَلْ فِي أَشْجَابِهِ مِنْ شَىْءٍ " .قَالَ فَانْطَلَقْتُ إِلَيْهِ فَنَظَرْتُ فِيهَا فَلَمْ أَجِدْ فِيهَا إِلاَّ قَطْرَةً فِي عَزْلاَءِ شَجْبٍ مِنْهَا لَوْ أَنِّي أُفْرِغُهُ لَشَرِبَهُ يَابِسُهُ . فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمْ أَجِدْ فِيهَا إِلاَّ قَطْرَةً فِي عَزْلاَءِ شَجْبٍ مِنْهَا لَوْ أَنِّي أُفْرِغُهُ لَشَرِبَهُ يَابِسُهُ قَالَ «اذْهَبْ فَأْتِنِي بِهِ» .فَأَتَيْتُهُ بِهِ فَأَخَذَهُ بِيَدِهِ فَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ بِشَىْءٍ لاَ أَدْرِي مَا هُوَ وَيَغْمِزُهُ بِيَدَيْهِ ثُمَّ أَعْطَانِيهِ فَقَالَ «يَا جَابِرُ نَادِ بِجَفْنَةٍ» . فَقُلْتُ يَا جَفْنَةَ الرَّكْبِ . فَأُتِيتُ بِهَا تُحْمَلُ فَوَضَعْتُهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدِهِ فِي الْجَفْنَةِ هَكَذَا فَبَسَطَهَا وَفَرَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ وَضَعَهَا فِي قَعْرِ الْجَفْنَةِ وَقَالَ " خُذْ يَا جَابِرُ فَصُبَّ عَلَىَّ وَقُلْ بِاسْمِ اللَّهِ " .فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ بِاسْمِ اللَّهِ . فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَتَفَوَّرُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ فَارَتِ الْجَفْنَةُ وَدَارَتْ حَتَّى امْتَلأَتْ فَقَالَ «يَا جَابِرُ نَادِ مَنْ كَانَ لَهُ حَاجَةٌ بِمَاءٍ» . قَالَ فَأَتَى النَّاسُ فَاسْتَقَوْا حَتَّى رَوَوْا قَالَ فَقُلْتُ هَلْ بَقِيَ أَحَدٌ لَهُ حَاجَةٌ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَهُ مِنَ الْجَفْنَةِ وَهِيَ مَلأَى

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

অতঃপর আমরা সেনা ছাউনীতে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে জাবির! ওজু করার জন্য ঘোষণা দাও। আমি ঘোষণা করলাম, হে লোক সকল! ওজু করো, ওজু করো, ওজু করো। তারপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কাফেলার কাছে এক ফোটা পানিও নেই। কাফেলায় এক আনসারী সাহাবী ছিলেন। তিনি কাঠের ডালে ঝুলন্ত একটি মশকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য পানি ঠাণ্ডা করার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি অমুকের ছেলে অমুক আনসারীর নিকট যাও এবং দেখো তার মশকে কিছু পানি আছে কিনা? আমি তার কাছে গেলাম এবং দেখলাম, মশকের তলাতে শুধু এ ফোটা পানি রয়েছে। সেটা যদি আমি পাত্রে ঢালতে যাই তবে শুষ্ক মশকই সেটা খেয়ে নিঃশেষ করে দিবে। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মশকের মুখে এক ফোটা পানি ছাড়া আর কোন পানিই মশকের অভ্যন্তরে নেই। সেটাও যদি পাত্রে ঢালা হয় তবে মশকের শুষ্কতাই তা চোষে শেষ করে দিবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যাও সেটা নিয়ে এসো।জাবির (রাঃ) বলেন, সেটা আমি নিয়ে আসলাম। তিনি সেটা হতে নিয়ে কি যেন পাঠ করতে শুরু করলেন। আমি তা উপলব্ধি করতে পারছিলাম না এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজ হাত দ্বারা সেটা টিপতে শুরু করলেন। এরপর তিনি মশকটি আমার হাতে দিয়ে বললেন, হে জাবির! একটি বড় পাত্র নিয়ে আসর ঘোষণা দাও। আমি ঘোষণা করলাম, হে কাফেলা! একটি বড় পাত্র, একটি বড় পাত্র; অতঃপর বহন করতঃ আমার নিকট একটি বড় পাত্র নিয়ে আসা হলো। আমি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে নিয়ে রাখলাম।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাত উক্ত পাত্রের উপর বুলালেন এবং স্বীয় হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁকা করে হাত প্রশস্ত করতঃ পাত্রের অভ্যন্তরে রাখলেন এবং বললেন, হে জাবির! ঐ মশকটি নিয়ে এসো এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তার পানি আমার হাতের উপর ঢালো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ অনুযায়ী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আমি সেটার পানি ঢাললাম। অমনি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আঙ্গুলসমূহের মধ্য হতে পানি উথলিয়ে উঠছে। পরিশেষে পাত্রও উথলিয়ে উঠল এবং পাত্রে পানি চক্কর খেতে শুরু করল। এমনকি পাত্র পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।তখন আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে জাবির! ঘোষণা দাও, যার যার পানির প্রয়োজন আছে। জাবির (রাঃ) বলেন, লোকজন সবাই আসলো, পানি পান করলো এবং আত্মতৃপ্ত হলো। তিনি বলেন, তারপর আমি বললাম, পানির দরকার রয়েছে, এমন কোন লোক অবশিষ্ট রয়েছে কি? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্র হতে নিজ হাত উঠিয়ে নিলেন তখনও পাত্র পানিতে পরিপূর্ণ হয়েই রইল।

ই.ফা. ৭২৪০, ই.সে. ৭২৯৪

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৪০৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে পানির অভাবের সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর হাতে আল্লাহর বিশেষ বরকতের ঘটনা এসেছে। কাফেলায় ওজুর জন্য পানি প্রয়োজন ছিল, কিন্তু জাবির রাঃ জানালেন, প্রায় এক ফোঁটা পানিও নেই। একটি মশকের মুখে সামান্য পানি পাওয়া গেল। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সেটি আনতে বললেন, বড় পাত্র আনতে বললেন এবং জাবির রাঃ-কে বিসমিল্লাহ বলে পানি ঢালতে নির্দেশ দিলেন। তখন তিনি দেখলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আঙুলের ফাঁক দিয়ে পানি উথলিয়ে উঠছে। পাত্র ভরে গেল, মানুষ এসে পানি পান করল এবং প্রয়োজন পূরণ করল। শেষে পাত্র তখনও পানিতে পূর্ণ ছিল। হাদিসটি পানির বরকত, বিসমিল্লাহর গুরুত্ব এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মু‘জিজার একটি স্পষ্ট বর্ণনা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অভাবের সময় আল্লাহর সাহায্যের আশা রাখা উচিত।
  • কাজ শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হাদিসের এই ঘটনায় এসেছে।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মাধ্যমে আল্লাহ বিশেষ বরকত প্রকাশ করেছেন।
  • প্রয়োজনের সময় সবার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা সুন্দর আচরণ।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন