৪/৩১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৮৭ - সালাতে কিরাআতের মাঝারি স্বর

সলাতে মধ্যম আওয়াজে কিরাআত পাঠ করবে, যদি সশব্দে কিরাআত পাঠ করাতে অবাঞ্ছিত কিছু বিপদের সম্ভাবনা থাকে

সালাতে কিরাআতের স্বর কেমন হবে: মাঝারি আওয়াজের শিক্ষা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ ابْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴾وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا﴿قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ مُتَوَارٍ بِمَكَّةَ فَكَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَإِذَا سَمِعَ ذَلِكَ الْمُشْرِكُونَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ ﷺ ﴾وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ﴿ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ قِرَاءَتَكَ ﴾وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا﴿ عَنْ أَصْحَابِكَ أَسْمِعْهُمُ الْقُرْآنَ وَلاَ تَجْهَرْ ذَلِكَ الْجَهْرَ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً يَقُولُ بَيْنَ الْجَهْرِ وَالْمُخَافَتَةِ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহ তা’আলার বাণী- “নিজেদের সালাত খুব উচ্চৈঃস্বরেও পড়বে না এবং খুব নীচুস্বরেও পড়বে না, (এর মাঝামাঝি আওয়াজে পড়বে) ”- (সূরা বনী ইসরাঈল/ইসরা ১৭ : ১১০)।তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কায় (লোকচক্ষুর অন্তরালে) গোপন জীবন-যাপন করছিলেন। অতঃপর তিনি সাহাবীদের নিয়ে যখন সালাত আদায় করতেন উচ্চৈঃস্বরে কোরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা যখন তা শুনতে পেত তারা কোরআনের অবতীর্ণকারী এবং এটা নিয়ে আগমনকারীকে গালি দিত।মহান আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ) -কে বললেনঃ “তোমার সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করো না।” তাহলে মুশরিকরা তোমার কিরাআত শুনে ফেলবে। “আর নীচুস্বরেও পাঠ করবে না”- তাহলে তোমার সাহাবীরা তোমার কোরআন পাঠ শুনতে পাবে না। অবশ্য উচ্চৈঃস্বরেও পাঠ করবে না, বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি আওয়াজে পাঠ করবে। অর্থাৎ উচ্চৈঃস্বর ও নিম্নস্বরের মাঝামাঝি স্বরে পাঠ করবে।

ই.ফা. ৮৮৩, ই.সে. ৮৯৬

সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূরা বনী ইসরাইলের আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আয়াতটি এমন সময়ে নাযিল হয়, যখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মক্কায় গোপনে জীবন কাটাচ্ছিলেন। তিনি সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করার সময় উচ্চস্বরে কুরআন পড়তেন। তখন মুশরিকরা কুরআন, কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং যিনি কুরআন নিয়ে এসেছেন—তাঁকে গালি দিত। তাই আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দেন, সালাতে খুব জোরে কিরাআত না করতে, যাতে মুশরিকরা শুনে গালি দিতে না পারে। আবার খুব নিচু স্বরেও না পড়তে বলা হয়, যাতে সাহাবীরা কুরআন শুনতে পারে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো সালাতে কিরাআতের স্বর ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতে কুরআন পাঠে অকারণ উচ্চস্বরে পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • কিরাআত এত নিচু হওয়া ঠিক নয় যে অনুসারীরা কিছুই শুনতে না পায়।
  • পরিস্থিতি বুঝে মাঝারি স্বরে কুরআন পড়ার শিক্ষা এই হাদিসে পাওয়া যায়।
  • কুরআনের মর্যাদা রক্ষার জন্য কথাবার্তা ও আমলে সতর্ক থাকা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন