৪/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৮৮ - দোয়ায় মাঝারি স্বরের আদব
সলাতে মধ্যম আওয়াজে কিরাআত পাঠ করবে, যদি সশব্দে কিরাআত পাঠ করাতে অবাঞ্ছিত কিছু বিপদের সম্ভাবনা থাকে
দোয়ায় মাঝারি স্বর: কুরআনের আয়াতের সহজ শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৮৮৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮৮৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴾وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا﴿ قَالَتْ أُنْزِلَ هَذَا فِي الدُّعَاءِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহর বাণী-“নিজেদের সালাত খুব উচ্চৈঃস্বরেও পড়বে না এবং নীচুস্বরেও পড়বে না”- এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দোয়া সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (অর্থাৎ-দোয়া খুব উচ্চৈঃস্বরেও করবে না এবং খুব নীচুস্বরেও করবে না)।
ই.ফা. ৮৮৪, ই.সে. ৮৯৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) সূরা বনী ইসরাইলের আয়াতের একটি ব্যাখ্যা করেছেন। আয়াতে বলা হয়েছে, নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরে পড়বে না এবং খুব নিচু স্বরেও পড়বে না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এই আয়াত দোয়া সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ দোয়া করার সময় স্বরের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। দোয়া খুব বেশি জোরে করলে তা বিনয়ের ভাব কমিয়ে দিতে পারে, আবার খুব নিচু হলে নিজের মনোযোগও কমে যেতে পারে—এ রকম সাধারণ বোঝাপড়া হাদিসের ভাষা থেকে নেওয়া যায়। তবে এখানে মূল বক্তব্য হলো দোয়ার স্বর মাঝামাঝি রাখা। তাই দোয়ার আদব, দোয়ায় মাঝারি স্বর এবং আল্লাহর কাছে বিনয়ের সঙ্গে চাওয়ার বিষয়টি এই হাদিসে সহজভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়া করার সময় স্বরে ভারসাম্য রাখা উচিত।
- খুব উচ্চস্বরে দোয়া করা সবসময় প্রয়োজন নয়।
- দোয়ার মধ্যে বিনয় ও মনোযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সাহাবীদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়।
