৪/৩৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯৪৫ - রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দোয়া ও সালাতের ভারসাম্য
সলাতের রুকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করা এবং সংক্ষেপে পূর্ণাঙ্গরূপে সলাত আদায় করা
রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দোয়া ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের ভারসাম্য
সহীহ মুসলিম : ৯৪৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৯৪৫
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ غَلَبَ عَلَى الْكُوفَةِ رَجُلٌ - قَدْ سَمَّاهُ - زَمَنَ ابْنِ الأَشْعَثِ فَأَمَرَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَكَانَ يُصَلِّي فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَامَ قَدْرَ مَا أَقُولُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ .قَالَ الْحَكَمُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى فَقَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَرُكُوعُهُ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَسُجُودُهُ وَمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ . قَالَ شُعْبَةُ فَذَكَرْتُهُ لِعَمْرِو بْنِ مُرَّةَ فَقَالَ قَدْ رَأَيْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى فَلَمْ تَكُنْ صَلاَتُهُ هَكَذَا .
হাকাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু আশ’আস-এর সময় এক ব্যক্তি কূফাবাসীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। হাকাম তার নাম উল্লেখ করেছেন (মাতার ইবনু নাজিয়াহ্)। সে আবূ ‘উবাইদাহ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (ইবনু মাস’উদ) কে লোকদের সালাতে ইমামতি করার হুকুম দিলেন। তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে একটি দোয়া পড়ার পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন।দোয়াটি হচ্ছে : আল্লা-হুম্মা রব্বানা- লাকাল্ হামদু মিলআস্ সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল্ আল আরযি ওয়ামিলআ মা-শি‘তা মিন্ শাইয়িন বা’দু আহলাস্ সানা-য়ি ওয়াল্ মাজদি লা-মা-নি‘আ লিমা-আ‘তাইতা ওয়ালা-মু’তিয়া লিমা-মানা’তা ওয়ালা-ইয়ানফা’উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ। অর্থাৎ “হে আল্লাহ্! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও জমীন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী! আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই এবং কোনও সম্পদশালীকেই তার সম্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।”হাকাম বলেন, অতঃপর আমি এটা ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলার কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আমি বারা ইবনু আযিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর সালাত ছিল : তিনি রুকুতে যেতেন, রুকু থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতেন, সিজদা করতেন এবং দু’সিজদার মাঝে বিরতি দিতেন- এসবগুলোর সময়ের পরিমাণ প্রায় একই ছিল। শু’বাহ্ বলেন, আমি এটা ‘আমর ইবনু মুররাকে বললাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু আবূ লাইলাকে দেখেছি। কিন্তু তার সালাত তো এরূপ ছিল না।
ই.ফা. ৯৪০, ই.সে. ৯৫২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু উবাইদা ইবন আব্দুল্লাহকে লোকদের সালাতে ইমামতি করার কথা বলা হয়েছে। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে একটি দোয়া পড়ার পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। দোয়াটিতে আল্লাহর প্রশংসা, দান ও রোধ করার ক্ষমতা এবং সম্পদের অক্ষমতার কথা এসেছে। পরে হাকাম এই বিষয়টি আবদুর রহমান ইবন আবু লাইলার কাছে উল্লেখ করলে তিনি বারাআ ইবন আযিব (রাঃ)-এর বর্ণনা বলেন: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাতে রুকু, রুকু থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানো, সিজদা এবং দুই সিজদার মাঝের সময় প্রায় একই ছিল। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাতে রুকু-সিজদা ও দাঁড়ানোর মধ্যে স্থিরতা এবং ভারসাম্য থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় আল্লাহর প্রশংসার দোয়া পড়া বর্ণিত হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাতে রুকু, সিজদা ও মাঝের অবস্থাগুলো ভারসাম্যপূর্ণ ছিল।
- সালাতের প্রতিটি অংশে স্থিরতা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্পদ আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজে নিজে কাউকে বাঁচাতে পারে না—দোয়ায় এ কথা এসেছে।
