০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯ - মিথ্যাবাদী রাবী থেকে বেঁচে থাকা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
মিথ্যাবাদী রাবী থেকে হাদিস গ্রহণ না করার নির্দেশনা
সহীহ মুসলিম : ৪৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৯
وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ قَالَ لَنَا إِبْرَاهِيمُ إِيَّاكُمْ وَالْمُغِيرَةَ بْنَ سَعِيدٍ وَأَبَا عَبْدِ الرَّحِيمِ فَإِنَّهُمَا كَذَّابَانِ .
ইবনু ‘আওন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইব্রাহীম (নাখ‘ঈ) (রহঃ) আমাদের নিকট বললেন, তোমরা মুগীরাহ্ ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ) ও আবূ ‘আবদুর রহীমের কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থেকো। কেননা তারা উভয়ই মিথ্যাবাদী।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইব্রাহীম নাখ‘ঈ (রহঃ) সরাসরি সতর্ক করেছেন—মুগীরাহ্ ইবনু সা‘ঈদ এবং আবূ ‘আবদুর রহীমের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকতে। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, তারা উভয়ই মিথ্যাবাদী। এখানে কোর টপিক হলো হাদিস গ্রহণে সতর্কতা ও রাবী যাচাই। ইসলামে হাদিস হলো বড় আমানত। তাই যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে পরিচিত, তার কাছ থেকে ধর্মীয় বর্ণনা নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। এই বর্ণনা দেখায়, সালাফগণ শুধু ভালো কথা শুনে গ্রহণ করতেন না; বরং কে বলছে, তার সত্যবাদিতা কেমন—সেটিও দেখতেন। বর্তমান সময়েও যে কোনো ইসলামি বক্তব্য, পোস্ট বা ভিডিও শুনলে উৎস যাচাই করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যাবাদী রাবীর কাছ থেকে হাদিস নেওয়া থেকে বেঁচে থাকা দরকার।
- সালাফগণ রাবীর সত্যবাদিতা যাচাই করতেন।
- ধর্মীয় কথা গ্রহণের আগে বক্তার নির্ভরযোগ্যতা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
- ভুল উৎস থেকে হাদিস নিলে ভুল আমল ছড়িয়ে পড়তে পারে।
