০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৫ - ইয়ামানের দিকে ঈমানের ইশারা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
ইয়ামানের দিকে ঈমান: কোমলতা ও কঠোর হৃদয়ের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৮৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮৫
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا نُعَيْمٍ، وَذَكَرَ الْمُعَلَّى بْنَ عِرْفَانَ فَقَالَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو وَائِلٍ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا ابْنُ مَسْعُودٍ بِصِفِّينَ . فَقَالَ أَبُو نُعَيْمٍ أَتُرَاهُ بُعِثَ بَعْدَ الْمَوْتِ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ নু‘আয়ম একদা মু‘আল্লা ইবনু ‘ইরফান-এর আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন, মু‘আল্লা বলেছে যে, আবূ ওয়ায়িল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সিফ্ফীনের যুদ্ধে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। তার কথা শুনে আবূ নু‘আয়ম বললেন, তোমার কী ধারণা, তিনি কি মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবিত হয়ে ফিরে এসেছেন?”
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) হাত দিয়ে ইয়ামানের দিকে ইশারা করে বলেছেন, ‘জেনে রাখো, ঈমান সেখানেই।’ এরপর তিনি কঠোর ও পাষাণ হৃদয়ের কথা বলেছেন এবং কিছু লোকের অবস্থার প্রতি সতর্ক করেছেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ঈমানের সঙ্গে হৃদয়ের কোমলতা ও গ্রহণক্ষমতার সম্পর্ক আছে। একই সাথে কঠোর হৃদয়, অহংকার বা অনমনীয় মনোভাব মানুষকে সত্য থেকে দূরে নিতে পারে—এ সতর্কতাও বর্ণনায় আছে। এখানে নির্দিষ্ট গোত্রের উল্লেখ এসেছে, তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত সাধারণীকরণ করা উচিত নয়। হাদিসটি আমাদের নিজের হৃদয় পরীক্ষা করতে শেখায়: আমাদের কথাবার্তা ও আচরণ কি কোমল, নাকি কঠোরতা আমাদের চরিত্রে জায়গা নিচ্ছে?
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমানের সঙ্গে হৃদয়ের কোমলতা সুন্দরভাবে জড়িত।
- কঠোর হৃদয় সম্পর্কে হাদিসে সতর্কতা এসেছে।
- নির্দিষ্ট বর্ণনাকে অতিরিক্তভাবে সবার ওপর চাপানো ঠিক নয়।
- নিজের হৃদয় ও আচরণ নরম রাখার শিক্ষা পাওয়া যায়।
