২২/৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০১০ - কসমে ইনশাআল্লাহ বলার বিধান
যে ধরনের কসমে কাফ্ফারা ওয়াজিব হয় না
কসমে ইনশাআল্লাহ: কথার ধারাবাহিকতা ও সতর্কতার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০১০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০১০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ قَالَ وَاللهِ ثُمَّ قَالَ إِنْ شَاءَ اللهُ ثُمَّ لَمْ يَفْعَلْ الَّذِي حَلَفَ عَلَيْهِ لَمْ يَحْنَثْ১৭৩৫-قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الثُّنْيَا أَنَّهَا لِصَاحِبِهَا مَا لَمْ يَقْطَعْ كَلَامَهُ وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ نَسَقًا يَتْبَعُ بَعْضُهُ بَعْضًا قَبْلَ أَنْ يَسْكُتَ فَإِذَا سَكَتَ وَقَطَعَ كَلَامَهُ فَلَا ثُنْيَا لَهُ১৭৩৬-قَالَ يَحْيَى و قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ كَفَرَ بِاللهِ أَوْ أَشْرَكَ بِاللهِ ثُمَّ يَحْنَثُ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ كَفَّارَةٌ وَلَيْسَ بِكَافِرٍ وَلَا مُشْرِكٍ حَتَّى يَكُونَ قَلْبُهُ مُضْمِرًا عَلَى الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ وَلْيَسْتَغْفِرْ اللهَ وَلَا يَعُدْ إِلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَبِئْسَ مَا صَنَعَ.
নাফি’ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা) বলতেন : যদি কেউ কসম করে ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চাহেন) বলে তবে কসমকৃত কাজটি না করলে এই কসম ভঙ্গ হবে না। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : ‘ইনশাআল্লাহ’ কসমের সঙ্গে সঙ্গে এবং কথার ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে বলতে হবে। কেউ কসম করে কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর যদি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে তবে আর উহা ধর্তব্য হবে না। মালিক (র) বলেন : কেউ বলল, আমি যদি এই কাজ করি তবে আমি কাফের বা মুশরিক। পরে যদি ঐ ব্যক্তি কাজটি করে ফেলে তবে তার কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু অন্তরে শিরক কুফরীর আকীদা না হলে এতে কাফের বা মুশরিক হয়ে যাবে না। তবে গুনাহগার হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কিছু করবে না বলে তাকে তাওবা করতে হবে। এই ধরনের কসম অতি নিন্দনীয়।
[১] তা কসম বলে গণ্য হয় না এবং এতে কাফফারাও ওয়াজিব হয় না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০১০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, কেউ কসম করে সঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বললে, পরে সেই কাজ না করলে কসম ভঙ্গ হবে না। ইমাম মালিক (র) ব্যাখ্যা করেন, ‘ইনশাআল্লাহ’ কসমের সঙ্গে সঙ্গে বলতে হবে। কথা শেষ করে কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললে তা আর ধর্তব্য হবে না। একই বর্ণনায় এমন কসমের কথাও এসেছে যেখানে কেউ বলে, কাজ করলে সে কাফের বা মুশরিক। ইমাম মালিক (র) বলেন, অন্তরে কুফর বা শিরকের বিশ্বাস না থাকলে সে কাফের হবে না, তবে এমন কথা নিন্দনীয় এবং তাওবা করা উচিত। এই হাদিস কসমে ভাষার সতর্কতা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসমের সঙ্গে ইনশাআল্লাহ বলতে হলে কথার ধারাবাহিকতা রাখতে হয়।
- কসমের ভাষা হালকা করে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
- কুফর বা শিরকের শব্দ দিয়ে কসম করা নিন্দনীয়।
- ভুল কথার পর তাওবা ও সতর্কতা জরুরি।
