২২/৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০০৯ - কথার কসম ও ইয়ামিনে লাগব
নিরর্থক কসমের বিবরণ
ইয়ামিনে লাগব: কথায় কথায় কসম ও সত্যিকারের কসমের পার্থক্য
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০০৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০০৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ لَغْوُ الْيَمِينِ قَوْلُ الْإِنْسَانِ لَا وَاللهِ لَا وَاللهِ১৭৩০-قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي هَذَا أَنَّ اللَّغْوَ حَلِفُ الْإِنْسَانِ عَلَى الشَّيْءِ يَسْتَيْقِنُ أَنَّهُ كَذَلِكَ ثُمَّ يُوجَدُ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ اللَّغْوُ১৭৩১-قَالَ مَالِك وَعَقْدُ الْيَمِينِ أَنْ يَحْلِفَ الرَّجُلُ أَنْ لَا يَبِيعَ ثَوْبَهُ بِعَشَرَةِ دَنَانِيرَ ثُمَّ يَبِيعَهُ بِذَلِكَ أَوْ يَحْلِفَ لَيَضْرِبَنَّ غُلَامَهُ ثُمَّ لَا يَضْرِبُهُ وَنَحْوَ هَذَا فَهَذَا الَّذِي يُكَفِّرُ صَاحِبُهُ عَنْ يَمِينِهِ وَلَيْسَ فِي اللَّغْوِ كَفَّارَةٌ১৭৩২-قَالَ مَالِك فَأَمَّا الَّذِي يَحْلِفُ عَلَى الشَّيْءِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ آثِمٌ وَيَحْلِفُ عَلَى الْكَذِبِ وَهُوَ يَعْلَمُ لِيُرْضِيَ بِهِ أَحَدًا أَوْ لِيَعْتَذِرَ بِهِ إِلَى مُعْتَذَرٍ إِلَيْهِ أَوْ لِيَقْطَعَ بِهِ مَالًا فَهَذَا أَعْظَمُ مِنْ أَنْ تَكُونَ فِيهِ كَفَّارَةٌ.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) বলতেন : কথায় কথায় লা ওয়াল্লাহি, বালা ওয়াল্লাহি (না, আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আল্লাহর কসম) ধরনের কসম করা য়ামীন লাগব হবে (অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে উহা কসম বলে ধর্তব্য হবে না)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (রহঃ) বলেন : য়ামীনে লাগব হল সত্য মনে কয়ে কোন বিষয়ে কসম করা অথচ পরে তা বিপরীত বলে সাব্যস্ত হয়। এই বিষয়ে এটাই উত্তম যা আমি শুনেছি। মালিক (রহঃ) বলেন : ভবিষ্যতে কোন কাজ করা না করা সম্পর্কে কসম করা হলে তা পূরণ করা বাধ্যতামূলক, যেমন কেউ বলল : আল্লাহর কসম, এই কাপড়টি আমি দশ দীনারে বিক্রয় করব না। কিন্তু পরে দশ দীনারে তা বিক্রয় করে দিল বা কেউ বলল : আল্লাহর কসম, এই ব্যক্তির গোলামকে আমি মারব, পরে মারল না ইত্যাদি। এই ধরনের কসমের কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়। আর য়ামীনে লাগব-এর জন্য কাফ্ফারা নেই।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা) বলেন, কথায় কথায় ‘লা ওয়াল্লাহি’ বা ‘বালা ওয়াল্লাহি’ বলা ইয়ামিনে লাগব। অর্থাৎ তা শরীয়তের দৃষ্টিতে ধর্তব্য কসম নয়। ইমাম মালিক (র) বলেন, কেউ কোনো বিষয় সত্য মনে করে কসম করল, পরে তা বিপরীত প্রমাণিত হলো—এটিও লাগব। এর জন্য কাফ্ফারা নেই। তবে ভবিষ্যতের কোনো কাজ করা বা না করার বিষয়ে সচেতন কসম করলে, পরে তা ভাঙলে কাফ্ফারা দিতে হয়। আর জেনে-শুনে মিথ্যা কসম করা গুরুতর গুনাহ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে। এই হাদিস কসমের ভাষা, নিয়ত ও দায়িত্ব বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথায় কথায় বলা কসম সব সময় ধর্তব্য কসম নয়।
- ইচ্ছাকৃত ভবিষ্যৎ কসম ভাঙলে কাফ্ফারার প্রসঙ্গ আসে।
- জেনে-শুনে মিথ্যা কসম করা গুরুতর গুনাহ।
- কসমের বিষয়ে ভাষা ও নিয়তের গুরুত্ব আছে।
