২৭/৮. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৭১ - দাদী-নানীর মীরাসের সীমা

দাদী ও নানীর অংশ প্রসঙ্গ

দাদী ও নানীর মীরাস: কারা পাবে, কারা পাবে না

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৭১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ كَانَ لَا يَفْرِضُ إِلَّا لِلْجَدَّتَيْنِ ১৮৭৪-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ وَالَّذِي أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا أَنَّ الْجَدَّةَ أُمَّ الْأُمِّ لَا تَرِثُ مَعَ الْأُمِّ دِنْيَا شَيْئًا وَهِيَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ يُفْرَضُ لَهَا السُّدُسُ فَرِيضَةً وَأَنَّ الْجَدَّةَ أُمَّ الْأَبِ لَا تَرِثُ مَعَ الْأُمِّ وَلَا مَعَ الْأَبِ شَيْئًا وَهِيَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ يُفْرَضُ لَهَا السُّدُسُ فَرِيضَةً فَإِذَا اجْتَمَعَتْ الْجَدَّتَانِ أُمُّ الْأَبِ وَأُمُّ الْأُمِّ وَلَيْسَ لِلْمُتَوَفَّى دُونَهُمَا أَبٌ وَلَا أُمٌّ -قَالَ مَالِك فَإِنِّي سَمِعْتُ أَنَّ أُمَّ الْأُمِّ إِنْ كَانَتْ أَقْعَدَهُمَا كَانَ لَهَا السُّدُسُ دُونَ أُمِّ الْأَبِ وَإِنْ كَانَتْ أُمُّ الْأَبِ أَقْعَدَهُمَا أَوْ كَانَتَا فِي الْقُعْدَدِ مِنْ الْمُتَوَفَّى بِمَنْزِلَةٍ سَوَاءٍ فَإِنَّ السُّدُسَ بَيْنَهُمَا نِصْفَانِ ১৮৭৬-قَالَ مَالِك وَلَا مِيرَاثَ لِأَحَدٍ مِنْ الْجَدَّاتِ إِلَّا لِلْجَدَّتَيْنِ لِأَنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَّثَ الْجَدَّةَ ثُمَّ سَأَلَ أَبُو بَكْرٍ عَنْ ذَلِكَ حَتَّى أَتَاهُ الثَّبَتُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ وَرَّثَ الْجَدَّةَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا ثُمَّ أَتَتْ الْجَدَّةُ الْأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهَا مَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ شَيْئًا فَإِنْ اجْتَمَعْتُمَا فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا قَالَ مَالِك ثُمَّ لَمْ نَعْلَمْ أَحَدًا وَرَّثَ غَيْرَ جَدَّتَيْنِ مُنْذُ كَانَ الْإِسْلَامُ إِلَى الْيَوْمِ.

মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ

আবূ বাকর ইবনু আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম শুধু নানী ও দাদী এই দুইজনকেই হিস্যা দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে ইহা নির্ধারিত মাসআলা যে, মৃত ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকলে নানী হিস্যা পাবে না। ইহা ব্যতীত অন্য অবস্থায় নানী ষষ্ঠাং পাবে তার মাতা অথবা পিতা জীবিত থাকাকালীন দাদী মাহরূম হবেন। অন্য অবস্থাতে তার জন্য ষষ্ঠাং। আর যদি দাদীও মৃত ব্যক্তির নিকটের হয় অথবা নৈকট্যের বিবেচনায় দুইজন সমপর্যায়ের হয় তবে দুইজনে (দাদী ও নানী) ষষ্ঠাংশের অর্ধেক হিস্যা প্রাপ্ত হবে।মালিক (র) বলেন : অন্যান্য দাদী-নানীর জন্য কোন মীরাস নাই এই দুই দাদী ও নানী ব্যতীত, যেহেতু আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে মীরাস দিয়েছেন। অতঃপর আবূ বকরকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হল। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে অংশ দিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়ে তিনিও দাদীকে অংশ দিয়েছেন।অতঃপর এক নানী উমর ইবনু খাত্তাব (রা)-এর নিকট এলে তিনি বলেছেন আমি কারো জন্য মীরাসে নূতন কোন অংশ দিতে পারি না, তবে দাদী ও নানী একত্র হলে ঐ অংশ তাদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। আর তাদের যে কেউ একজন শুধু আছে (অন্য দাদী নানী নাই) তবে সে একই ষষ্ঠাংশ পাবে। মালিক (র) বলেন : ইসলামের প্রারম্ভ হতে আজ পর্যন্ত উক্ত নানীগণ এবং দাদীগণ ব্যতীত কেউই অন্য নানী কিংবা দাদীগণকে কোন মীরাস দেয়নি।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৭১-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় দাদী ও নানীর মীরাসের সীমা পরিষ্কারভাবে এসেছে। আবূ বকর ইবনু আবদুর রহমান কেবল দাদী বা নানীকে অংশ দিতেন। ইমাম মালিক (র) বলেন, মৃতের মাতা জীবিত থাকলে নানী মীরাস পাবে না। অন্য অবস্থায় নানীর জন্য ষষ্ঠাংশ। আবার মৃতের মাতা বা পিতা জীবিত থাকলে দাদী পাবে না; অন্য অবস্থায় দাদীর জন্য ষষ্ঠাংশ। যদি দাদী ও নানী উভয়ই থাকে, নিকটতার ভিত্তিতে হিসাব হবে; সমপর্যায়ে হলে ষষ্ঠাংশ ভাগ হবে। এখানে ফারায়েয, দাদী নানীর অংশ, মীরাসের বাধা—এসব বিষয় সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মাতা জীবিত থাকলে নানীর অংশ না পাওয়ার কথা এসেছে।
  • মাতা বা পিতা জীবিত থাকলে দাদীর অংশ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
  • অন্য অবস্থায় দাদী বা নানীর জন্য ষষ্ঠাংশের কথা এসেছে।
  • দাদী-নানী একসঙ্গে থাকলে নিকটতা বিবেচনায় অংশ নির্ধারণ করা হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন