২৮/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৮৫ - নারীর সম্মতি ও বিবাহের অধিকার
কুমারী ও তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা হতে বিবাহের সম্মতি নেয়ার বিধান
বিবাহে নারীর সম্মতি: আইয়্যেম ও কুমারীর অধিকার
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৮৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৮৫
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আইয়্যেম [১] তার ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার এবং কুমারীর বিবাহের ব্যাপারে তার অনুমতি নিতে হবে। চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি।
[১] আভিধানিক অর্থে আইয়্যেম বলা হয় স্বামীবিহীন মহিলা এবং স্ত্রীবিহীন পুরুষকে। হাদীসে উল্লিখিত আইয়্যেমের ব্যাখ্যায় হিজাজের ফকীহ্ ও আলিমগণ বলেছেন- এর অর্থ তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা মহিলা। (সহীহ, মুসলিম ১৪২১)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিবাহে নারীর সম্মতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আইয়্যেম বা পূর্বে বিবাহিত নারী নিজের ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার। আর কুমারীর বিবাহের ব্যাপারে তার অনুমতি নিতে হবে। তার চুপ থাকা অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে। এখানে “বিবাহে নারীর সম্মতি”, “কুমারীর অনুমতি”, “আইয়্যেম নারীর অধিকার” এবং “চুপ থাকাই অনুমতি”—এসব মূল বিষয়। হাদিসটি বুঝতে সহজ: বিবাহ এমন একটি সম্পর্ক, যেখানে নারীর মতকে অগ্রাহ্য করা যায় না। পূর্বে বিবাহিত নারী নিজের সিদ্ধান্তে বেশি সরাসরি কথা বলতে পারেন। কুমারী মেয়ের ক্ষেত্রে লজ্জা বা সংকোচ থাকতে পারে, তাই তার নীরবতাকে অনুমতির এক রূপ বলা হয়েছে। তবে মূল কথা হলো, বিবাহের আগে তার অনুমতি নেওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আইয়্যেম নারী নিজের বিবাহের ব্যাপারে বেশি হকদার বলে উল্লেখ হয়েছে।
- কুমারী মেয়ের বিবাহে তার অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- কুমারীর নীরবতাকে তার অনুমতি হিসেবে ধরা হয়েছে।
- বিবাহে নারীর মতকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
