২৮/১১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১০৮ - ইদ্দতের মধ্যে বিবাহের বিধান
বিভিন্ন অবৈধ বিবাহ
ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ করলে কী বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১০৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১০৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ طُلَيْحَةَ الْأَسَدِيَّةَ كَانَتْ تَحْتَ رُشَيْدٍ الثَّقَفِيِّ فَطَلَّقَهَا فَنَكَحَتْ فِي عِدَّتِهَا فَضَرَبَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَضَرَبَ زَوْجَهَا بِالْمِخْفَقَةِ ضَرَبَاتٍ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ فِي عِدَّتِهَا فَإِنْ كَانَ زَوْجُهَا الَّذِي تَزَوَّجَهَا لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ اعْتَدَّتْ بَقِيَّةَ عِدَّتِهَا مِنْ زَوْجِهَا الْأَوَّلِ ثُمَّ كَانَ الْآخَرُ خَاطِبًا مِنْ الْخُطَّابِ وَإِنْ كَانَ دَخَلَ بِهَا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ اعْتَدَّتْ بَقِيَّةَ عِدَّتِهَا مِنْ الْأَوَّلِ ثُمَّ اعْتَدَّتْ مِنْ الْآخَرِ ثُمَّ لَا يَجْتَمِعَانِ أَبَدًا قَالَ مَالِك وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَلَهَا مَهْرُهَا بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْهَا ১৯৬২-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْمَرْأَةِ الْحُرَّةِ يُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا فَتَعْتَدُّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا إِنَّهَا لَا تَنْكِحُ إِنْ ارْتَابَتْ مِنْ حَيْضَتِهَا حَتَّى تَسْتَبْرِئَ نَفْسَهَا مِنْ تِلْكَ الرِّيبَةِ إِذَا خَافَتْ الْحَمْلَ.
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তুলায়হা আসদিয়া রুশাইদ ছাক্বাফী (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাকে তালাক দিলেন। তারপর তুলায়হা ইদ্দতের ভিতরে বিবাহ করলেন। এই কারণে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাকে এবং তার স্বামীকে কয়েকটি চাবুক মারলেন এবং উভয়কে পৃথক করে দিলেন। তারপর উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন : যে স্ত্রীলোক ইদ্দতের ভিতর বিবাহ করিয়াছে, বিবাহকারী তার সেই স্বামী যদি তার সাথে সহবাস না করে থাকে তবে উভয়কে পৃথক করে দেয়া হবে।তারপর স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর পক্ষের অসম্পূর্ণ ইদ্দত পূর্ণ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী স্বাভাবিক নিয়মে বিবাহের প্রস্তাবকারীগণের মধ্যে একজন প্রস্তাবকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি তার সাথে সহবাস করে থাকে তবে উভয়কে পৃথক করা হবে। তারপর প্রথম স্বামীর (পক্ষের) অবশিষ্ট ইদ্দত পূর্ণ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত পূর্ণ করবে। আর তারা (দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রী) উভয়ে আর কখনো মিলিত হতে পারবে না।(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) বলেছেন : সেই স্ত্রীলোক মহর-এর হকদার হবে। কারণ তার সঙ্গে (বিবাহের মাধ্যমে) সহবাস করা হয়েছে। মালিক (রহঃ) বলেন : আমাদের সিদ্ধান্ত হল, স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, এমন স্বাধীন নারী চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। আর তার হায়েযের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় গর্ভধারণের আশঙ্কা দেখা দিলে সে নারী সন্দেহমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় তুলায়হা আসদিয়া (র)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁর স্বামী তাঁকে তালাক দেন, এরপর তিনি ইদ্দতের মধ্যেই বিবাহ করেন। এ কারণে উমার ইবনু খাত্তাব (রা) তাকে ও তার নতুন স্বামীকে শাস্তি দেন এবং তাদের পৃথক করে দেন। এরপর তিনি নিয়ম ব্যাখ্যা করেন: যদি দ্বিতীয় স্বামী সহবাস না করে থাকে, তবে উভয়কে পৃথক করা হবে, নারী প্রথম স্বামীর বাকি ইদ্দত পূর্ণ করবে, তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি অন্য প্রস্তাবকারীদের মতো বিবাহের প্রস্তাব দিতে পারবে। আর যদি সহবাস হয়ে থাকে, তবে পৃথক করা হবে, প্রথম স্বামীর বাকি ইদ্দত পূর্ণ হবে, এরপর দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত পূর্ণ হবে, এবং তারা আর মিলিত হতে পারবে না। পরে মহর এবং স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত নিয়েও কথা এসেছে। মূল কীওয়ার্ড হলো ‘ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ’, ‘ইদ্দতের বিধান’ এবং ‘তালাকের পর বিবাহ’।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে বিবাহ করা যাবে না।
- ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ হলে উভয়কে পৃথক করার কথা এসেছে।
- সহবাস হয়েছে কি হয়নি—এর ওপর পরবর্তী বিধানের পার্থক্য এসেছে।
- স্বামীর মৃত্যুর পর স্বাধীন নারীর ইদ্দত চার মাস দশ দিন বলা হয়েছে।
