২৮/১৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১৫ - দুই বোন দাসীকে একত্র করার নিষেধ
ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দুই বোনের সাথে মিলিত হওয়া এবং স্ত্রী ও তার কন্যার সাথে একত্রে মিলিত হওয়া হারাম
দুই বোন দাসীর সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়ার বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১১৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১১৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَنْ الْأُخْتَيْنِ مِنْ مِلْكِ الْيَمِينِ هَلْ يُجْمَعُ بَيْنَهُمَا فَقَالَ عُثْمَانُ أَحَلَّتْهُمَا آيَةٌ وَحَرَّمَتْهُمَا آيَةٌ فَأَمَّا أَنَا فَلَا أُحِبُّ أَنْ أَصْنَعَ ذَلِكَ قَالَ فَخَرَجَ مِنْ عِنْدِهِ فَلَقِيَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَوْ كَانَ لِي مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ ثُمَّ وَجَدْتُ أَحَدًا فَعَلَ ذَلِكَ لَجَعَلْتُهُ نَكَالًا قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أُرَاهُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ.
কাবীসা ইবনু যুয়াইব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ)-কে এমন দুই বোন সম্পর্কে প্রশ্ন করল যে দুই বোনের ক্রয়সূত্রে (কেউ) মালিক হয়েছে। এমতাবস্থায় উভয়ের সঙ্গে সংগত হওয়া যাবে কি? উসমান (রাঃ) বললেন : উভয়ের সঙ্গে সংগত হওয়া (কোরআনুল) এক আয়াত অনুযায়ী হালাল করা হয়েছে। আবার অন্য আয়াত অনুযায়ী একে হারাম করা হয়েছে। তাই আমি একে (দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়া) পছন্দ করি না।প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাঁর নিকট হতে প্রস্থান করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্য একজন সাহাবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। তখন সে এই বিষয়ে তাঁর নিকট প্রশ্ন করল। তিনি বললেন : লোকের উপর যদি আমার অধিকার থাকত তবে কাউকেও এইরূপ করতে পাইলে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন : আমি মনে করি এই সাহাবী আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : যুবাইর ইবনু আউয়াম (রাঃ) হতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত তাঁর নিকট পৌঁছেছে।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এক ব্যক্তি উসমান ইবনু আফ্ফান (রা)-কে দুই বোন দাসী সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, যাদের ওপর ক্রয়সূত্রে মালিকানা আছে। প্রশ্ন ছিল, উভয়ের সঙ্গে সংগত হওয়া যাবে কি না। উসমান (রা) বলেন, একটি আয়াতের দিক থেকে তা হালাল বোঝা যায়, আবার অন্য আয়াতের দিক থেকে হারাম বোঝা যায়; তাই তিনি এটি পছন্দ করেন না। পরে প্রশ্নকারী অন্য এক সাহাবীর কাছে একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যদি তাঁর হাতে কর্তৃত্ব থাকত এবং কাউকে এ কাজ করতে দেখতেন, তবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেন। ইবনু শিহাব (র) মনে করেন, সেই সাহাবী আলী (রা)। এখানে মূল বিষয় হলো ‘দুই বোন দাসী’, ‘একত্রে সংগত’ এবং ‘কুরআনের আয়াতের ভিত্তিতে সতর্কতা’। বর্ণনায় দ্বিধা নয়; বরং সতর্ক ও অপছন্দের মনোভাব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়াকে উসমান (রা) পছন্দ করেননি।
- অন্য সাহাবীর বক্তব্যে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেখা যায়।
- মালিকানা থাকলেও দুই বোনের সম্পর্ক উপেক্ষা করা যায় না।
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সতর্কতা ও আলিমদের মত জানা দরকার।
