২৮/১৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১২৪ - ক্রীতদাসের বিবাহ ও মুহাল্লিল
ক্রীতদাসের বিবাহ
ক্রীতদাসের বিবাহ ও মুহাল্লিল বিবাহের পার্থক্য
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১২৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১২৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ يَنْكِحُ الْعَبْدُ أَرْبَعَ نِسْوَةٍ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ ১৯৯৭-قَالَ مَالِك وَالْعَبْدُ مُخَالِفٌ لِلْمُحَلِّلِ إِنْ أَذِنَ لَهُ سَيِّدُهُ ثَبَتَ نِكَاحُهُ وَإِنْ لَمْ يَأْذَنْ لَهُ سَيِّدُهُ فُرِّقَ بَيْنَهُمَا وَالْمُحَلِّلُ يُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا عَلَى كُلِّ حَالٍ إِذَا أُرِيدَ بِالنِّكَاحِ التَّحْلِيلُ১৯৯৮- قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ إِذَا مَلَكَتْهُ امْرَأَتُهُ أَوْ الزَّوْجُ يَمْلِكُ امْرَأَتَهُ إِنَّ مِلْكَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ يَكُونُ فَسْخًا بِغَيْرِ طَلَاقٍ وَإِنْ تَرَاجَعَا بِنِكَاحٍ بَعْدُ لَمْ تَكُنْ تِلْكَ الْفُرْقَةُ طَلَاقًا ১৯৯৯-قَالَ مَالِك وَالْعَبْدُ إِذَا أَعْتَقَتْهُ امْرَأَتُهُ إِذَا مَلَكَتْهُ وَهِيَ فِي عِدَّةٍ مِنْهُ لَمْ يَتَرَاجَعَا إِلَّا بِنِكَاحٍ جَدِيْدٍ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রবী‘আ ইব্নু আবূ আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করতে পারে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম। মালিক (রহঃ) বলেন : ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তার বিবাহ বৈধ হবে। আর যদি মালিক তার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করে দেয়া হবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করে দেওয়া হবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে থাকে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তার মালিক হয়, অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাদের বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে নতুন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলে গণ্য হবে না।মালিক (রহঃ) বলেন : ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তার মালিক হয়েছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রয়েছে, তবে তারা উভয়ে নতুন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে না। (অর্থাৎ নতুনভাবে বিবাহ করতে হবে)।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ক্রীতদাসের বিবাহ সম্পর্কে রবী‘আ ইবনু আবদুর রহমান (র)-এর বক্তব্য এসেছে যে, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করতে পারে। ইমাম মালিক (র) বলেন, এ বিষয়ে তিনি যা শুনেছেন, এর মধ্যে এটিই উত্তম। এরপর তিনি ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিলের বিবাহের পার্থক্য বলেন। ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে মালিক অনুমতি দিলে বিবাহ বহাল থাকবে, অনুমতি না দিলে স্বামী-স্ত্রীকে পৃথক করা হবে। কিন্তু মুহাল্লিল বিবাহ যদি হালাল করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে সব অবস্থায় পৃথক করা হবে। একই হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর একজন অন্যজনের মালিক হয়ে গেলে তালাক ছাড়াই বিবাহ ভঙ্গ হওয়ার কথাও এসেছে। তাই এটি বিবাহের বিধান, অনুমতি এবং উদ্দেশ্যের গুরুত্ব বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহের বৈধতায় উদ্দেশ্য ও অনুমতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
- মুহাল্লিল বিবাহকে আলাদা ও কঠোরভাবে দেখা হয়েছে।
- স্বামী-স্ত্রীর মালিকানা সম্পর্ক তৈরি হলে বিবাহ ভঙ্গের আলোচনা এসেছে।
