২৯/৫. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৫২ - স্বামীকে বেছে নেওয়া তালাক নয়

যে ক্ষমতা প্রদান তালাকের কারণ হয় না তার বর্ণনা

ইখতিয়ারে স্বামীকে গ্রহণ করলে তালাক হয় না

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৫২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنَّهَا خَطَبَتْ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ قَرِيبَةَ بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ فَزَوَّجُوهُ ثُمَّ إِنَّهُمْ عَتَبُوا عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَالُوا مَا زَوَّجْنَا إِلَّا عَائِشَةَ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَجَعَلَ أَمْرَ قَرِيبَةَ بِيَدِهَا فَاخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلَاقًا.

কাসিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবী বাকর (রাঃ)-এর জন্য কারীবা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করলেন, (কন্যা কর্তৃপক্ষ) তাঁর কাছে বিবাহ দিলেন। তারপর (কোন কারণে) তারা আবদুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হলেন [১] এবং তারা বললেন : আমরা আয়িশা (রাঃ)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হয়েছি। ‘আয়িশা (রাঃ) আবদুর রহমানের কাছে লোক প্রেরণ করলেন এবং তাদের বক্তব্য অবহিত করলেন। আবদুর রহমান কারীবার বিষয় কারীবার উপর ন্যস্ত করলেন। কারীবা (রাঃ) তাঁর স্বামীকে গ্রহণ করলেন। [২] ইহা তালাক বলে গণ্য হল না।

[১] আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) রূঢ় প্রকৃতির ছিলেন। একদিন কোন বিষয়ে তাঁর স্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়ে বললেনঃ আপনার সম্পর্কে আমাকে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছিল। -আওজাযুল মাসালিক[২] অর্থাৎ আবদুর রহমান (রাঃ) কুরায়যা (রাঃ)-কে তাঁর নিকট থাকা না থাকার অধিকার প্রদান করলেন। উত্তরে কুরায়যা (রাঃ) বললেনঃ আমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর পুত্রকে ত্যাগ করব না। -আওজাযুল মাসালিক (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৫২-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় আয়িশা (রা) আবদুর রহমান ইবনু আবী বাকর (রা)-এর জন্য কুরায়যা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করেন। পরে কন্যা পক্ষ আবদুর রহমানের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে বলে, তারা আয়িশা (রা)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হয়েছিল। আয়িশা (রা) বিষয়টি আবদুর রহমানকে জানালে তিনি কুরায়যার বিষয় কুরায়যার ওপর ছেড়ে দেন। কুরায়যা তার স্বামীকেই গ্রহণ করেন। বর্ণনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এটি তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি। এখানে স্ত্রীকে ইখতিয়ার দেওয়া, স্বামীকে বেছে নেওয়া এবং তালাক না হওয়া—এই তিনটি মূল বিষয়। তাই সব ইখতিয়ার তালাক নয়; স্ত্রীর সিদ্ধান্ত কী ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্ত্রীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলে সে স্বামীকে বেছে নিতে পারে।
  • স্বামীকে গ্রহণ করলে এই ঘটনায় তালাক গণ্য হয়নি।
  • পারিবারিক অসন্তোষের মাঝেও সিদ্ধান্তের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • ইখতিয়ারের ফল নির্ভর করে স্ত্রী কী নির্বাচন করেছে তার ওপর।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন