৩০/৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৬৩ - গীলা সম্পর্কে নববী নির্দেশনা
দুধ পান করানোর বিবিধ বিষয়
গীলা সম্পর্কে হাদিস: দুধপানকালীন দাম্পত্য জীবনের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৬৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৬৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَنْ جُدَامَةَ بِنْتِ وَهْبٍ الْأَسَدِيَّةِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَنْهَى عَنْ الْغِيلَةِ حَتَّى ذَكَرْتُ أَنَّ الرُّومَ وَفَارِسَ يَصْنَعُونَ ذَلِكَ فَلَا يَضُرُّ أَوْلَادَهُمْ قَالَ مَالِك وَالْغِيلَةُ أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ تُرْضِعُ.
জদামা বিনতি ওয়াহাব আসদিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ)-কে খবর দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি সংকল্প করেছিলাম গীলা হতে বারণ করার, কিন্তু আমার নিকট উল্লেখ করা হয় যে, রোম ও পারস্যের লোকেরা এটা করে থাকে, তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না। (সহীহ, মুসলিম ১৪৪২) মালিক (রহঃ) বলেন : গীলা হইতেছে শিশুকে দুধ পান করানোকালীন সময়ে স্ত্রীর সহিত স্বামীর সঙ্গম করা।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গীলা বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। মালিক (রহঃ) ব্যাখ্যা করেছেন, গীলা হলো শিশুকে দুধ পান করানোর সময়ে স্বামীর স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়া। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে এ কাজ থেকে বারণ করার ইচ্ছা করেছিলেন। পরে তাঁর কাছে উল্লেখ করা হয় যে, রোম ও পারস্যের লোকেরা এমন করত, কিন্তু তাদের সন্তানদের ক্ষতি হত না। তাই এই বর্ণনায় দাম্পত্য জীবন, শিশুর দুধপান এবং ক্ষতির আশঙ্কা—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে এসেছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নবীজি মানুষের বাস্তব জীবন ও সন্তানের কল্যাণকে বিবেচনায় নিয়েছেন। হাদিসটি কোনো অতিরিক্ত দাবি করছে না; বরং এতে দেখা যায়, ক্ষতি প্রমাণিত না হলে বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর দুধপানকালীন সময়েও পরিবারের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে।
- কোনো বিষয়ে নিষেধের আগে ক্ষতি ও বাস্তব ফলাফল দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
- দাম্পত্য জীবনের বিষয়েও শরীয়তের আলোচনা সংযত ও বাস্তবমুখী।
