৩১/২৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩২৯ - পশু বিক্রয়ে অনিশ্চয়তা ও নিষেধ
পশুর অবৈধ বিক্রয়
পশু বিক্রয়ে মাযামীন, মালাকীহ ও হাবালুল হাবালা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩২৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩২৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ: لَا رِبًا فِي الْحَيَوَانِ وَإِنَّمَا نُهِيَ مِنْ الْحَيَوَانِ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ الْمَضَامِينِ وَالْمَلَاقِيحِ وَحَبَلِ الْحَبَلَةِ وَالْمَضَامِينُ بَيْعُ مَا فِي بُطُونِ إِنَاثِ الْإِبِلِ وَالْمَلَاقِيحُ بَيْعُ مَا فِي ظُهُورِ الْجِمَالِ.قَالَ مَالِك لَا يَنْبَغِي أَنْ يَشْتَرِيَ أَحَدٌ شَيْئًا مِنْ الْحَيَوَانِ بِعَيْنِهِ إِذَا كَانَ غَائِبًا عَنْهُ وَإِنْ كَانَ قَدْ رَآهُ وَرَضِيَهُ عَلَى أَنْ يَنْقُدَ ثَمَنَهُ لَا قَرِيبًا وَلَا بَعِيدًا قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِأَنَّ الْبَائِعَ يَنْتَفِعُ بِالثَّمَنِ وَلَا يُدْرَى هَلْ تُوجَدُ تِلْكَ السِّلْعَةُ عَلَى مَا رَآهَا الْمُبْتَاعُ أَمْ لَا فَلِذَلِكَ كُرِهَ ذَلِكَ وَلَا بَأْسَ بِهِ إِذَا كَانَ مَضْمُونًا مَوْصُوفًا.
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
পশুতে সুদ নাই। তিন প্রকারের পশু [-এর ক্রয়-বিক্রয়] হতে নিষেধ করা হয়েছে “মাযামীন, মালাকীহ, হাবালুল হাবালা” [এই তিন প্রকারের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ]। উষ্ট্রীদের উদরের বাচ্চারা হচ্ছে মাযামীন। আর উটদের পিঠের বীর্য হচ্ছে মালাকী মালিক (রহঃ) বলেনঃ নির্দিষ্ট কোন জানোয়ার কারো পক্ষে ক্রয় করা জায়েয নয় যদি উক্ত পশু তার মওজুদ না থাকে। যদিও ক্রেতা (পূর্বে) উহাকে দেখে থাকে এবং (দেখার সময়) নগদ মূল্য পরিশোধ করতে রাজী হয়ে থাকে। এই বিক্রয় জায়েয হবে না? বিক্রীত পশুর অনুপস্থিতি অল্পদিনে হোক কিংবা বেশি দিনের হোক। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (রহঃ) বলেনঃ এটা এজন্য মাকরূহ যে, বিক্রেতা তার মূল্য দ্বারা উপকৃত হবে। অথচ সেই নির্দিষ্ট জানোয়ারটিকে ক্রেতা যেই অবস্থায় দেখেছিল সেই অবস্থায় পাওয়া যাবে কি যাবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এই কারণেই এটা মাকরূহ হয়েছে। তবে যদি বিক্রীত বস্তুর (ভালরূপে) গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে দেয়া হয় এবং যথাসময়ে ক্রেতার নিকট উহাকে সোপর্দ করার ব্যাপারে বিক্রেতা দায়ী থাকে, তা হলে এই বিক্রয় জায়েয হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) বলেন, পশুতে সুদ নেই; তবে পশু সংক্রান্ত তিন ধরনের বিক্রয় নিষিদ্ধ: মাযামীন, মালাকীহ এবং হাবালুল হাবালা। মাযামীন হলো উষ্ট্রীর পেটে থাকা বাচ্চা বিক্রি, মালাকীহ হলো উটের পিঠের বীর্য সম্পর্কিত বিক্রি, আর হাবালুল হাবালা হলো জাহিলী যুগের সেই অনিশ্চিত লেনদেন। এরপর ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, নির্দিষ্ট কোনো পশু অনুপস্থিত থাকলে, শুধু আগে দেখে থাকলেই তা কেনা ঠিক নয়; কারণ পরে সেটি আগের অবস্থায় পাওয়া যাবে কি না জানা নেই। তবে পশুর গুণাগুণ পরিষ্কারভাবে বলা হলে এবং বিক্রেতা তা যথাসময়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিলে লেনদেন গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশু বিক্রয়ে অজানা বা অনিশ্চিত বিষয় চুক্তির ভিত্তি করা উচিত নয়।
- অনুপস্থিত নির্দিষ্ট পশু কেনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে।
- পণ্যের গুণাগুণ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা নিরাপদ লেনদেনের অংশ।
- বিক্রেতার দায়িত্ব ও জামানত থাকলে অস্পষ্টতা কমে।
