৩১/৪৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৬৬ - ক্রয়-বিক্রয়ে নম্রতা ও নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক
ক্রয়-বিক্রয়ের বিভিন্ন বিধান
ক্রয়-বিক্রয়ে নম্র ব্যবহার: সৎ ব্যবসায় সহজ আচরণের মূল্য
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৬৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৬৬
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ يَقُولُ أَحَبَّ اللهُ عَبْدًا سَمْحًا إِنْ بَاعَ سَمْحًا إِنْ ابْتَاعَ سَمْحًا إِنْ قَضَى سَمْحًا إِنْ اقْتَضَى ২৫২৬-قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَشْتَرِي الْإِبِلَ أَوْ الْغَنَمَ أَوْ الْبَزَّ أَوْ الرَّقِيقَ أَوْ شَيْئًا مِنْ الْعُرُوضِ جِزَافًا إِنَّهُ لَا يَكُونُ الْجِزَافُ فِي شَيْءٍ مِمَّا يُعَدُّ عَدًّاقَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُعْطِي الرَّجُلَ السِّلْعَةَ يَبِيعُهَا لَهُ وَقَدْ قَوَّمَهَا صَاحِبُهَا قِيمَةً فَقَالَ إِنْ بِعْتَهَا بِهَذَا الثَّمَنِ الَّذِي أَمَرْتُكَ بِهِ فَلَكَ دِينَارٌ أَوْ شَيْءٌ يُسَمِّيهِ لَهُ يَتَرَاضَيَانِ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ تَبِعْهَا فَلَيْسَ لَكَ شَيْءٌ إِنَّهُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ إِذَا سَمَّى ثَمَنًا يَبِيعُهَا بِهِ وَسَمَّى أَجْرًا مَعْلُومًا إِذَا بَاعَ أَخَذَهُ وَإِنْ لَمْ يَبِعْ فَلَا شَيْءَ لَهُقَالَ مَالِك وَمِثْلُ ذَلِكَ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ إِنْ قَدَرْتَ عَلَى غُلَامِي الْآبِقِ أَوْ جِئْتَ بِجَمَلِي الشَّارِدِ فَلَكَ كَذَا وَكَذَا فَهَذَا مِنْ بَابِ الْجُعْلِ وَلَيْسَ مِنْ بَابِ الْإِجَارَةِ وَلَوْ كَانَ مِنْ بَابِ الْإِجَارَةِ لَمْ يَصْلُحْقَالَ مَالِك فَأَمَّا الرَّجُلُ يُعْطَى السِّلْعَةَ فَيُقَالُ لَهُ بِعْهَا وَلَكَ كَذَا وَكَذَا فِي كُلِّ دِينَارٍ لِشَيْءٍ يُسَمِّيهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَصْلُحُ لِأَنَّهُ كُلَّمَا نَقَصَ دِينَارٌ مِنْ ثَمَنِ السِّلْعَةِ نَقَصَ مِنْ حَقِّهِ الَّذِي سَمَّى لَهُ فَهَذَا غَرَرٌ لَا يَدْرِي كَمْ جَعَلَ لَهُ.
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি মুহাম্মাদ ইবন মুনকাদির (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা ঐ ব্যক্তিকে ভালবাসেন, যে ক্রয় করতে, বিক্রয় করতে, ঋণ আদায় করতে, ঋণ উশুল করতে নরম ব্যবহার করে। [১] (সহীহ মারফু, ইমাম বুখারী ২০৭৬, তিনি ইবনু মুনকাদির তিনি জাবির (রাঃ) থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির উট, বকরী, কাপড়, গোলাম, দাসী ইত্যাদি গণনা না করে এক দলকে একত্রে খরিদ করে লওয়া ভাল নয়, যে বস্তু গণনা করে বিক্রি হয় উহা গণনা করে খরিদ করা ভাল।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কাউকেও নিজের কোন বস্তু নির্ধারিত মূল্যে এই শর্তে বিক্রয় করতে দেয় যে, যদি তুমি এই মূল্যে বিক্রয় কর তবে তোমাকে এক দীনার অথবা অন্য কিছু দেয়া হবে যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং উভয়ে তাতে সম্মত হয়েছে তা না হলে কিছুই পাবে না। তবে এতে কোন ক্ষতি নেই, যদি বিক্রয় মূল্য ও বিক্রয়ের পরের প্রাপ্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিক্রয় করলে তা পাবে, না করলে পাবে না।মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উদাহরণ এই যে, কোন ব্যক্তি কাউকেও বলল, যদি তুমি আমার যে গোলাম বা উট পালিয়ে গিয়েছে উহাকে তালাশ করে এনে দাও তবে তোমাকে এত দিব, তবে তা বৈধ। কারণ এতে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করে কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। ইহা ইজারা নয়, যদি ইজারা হত তবে ইহা বৈধ হত না।মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেউ এক ব্যক্তিকে কিছু মাল দিয়ে বলল, ইহা বিক্রয় করলে প্রতি দীনারে তোমাকে এত দিব; কত দিব তা উল্লেখ করল। এটাও বৈধ নয়। কেননা উক্ত পণ্যের দাম কম হলেই তার নির্ধারিত পারিশ্রমিক কমে যাবে। এটাও এক প্রকার ধোঁকা, জানে না সে কত পাবে।
[১] অর্থাৎ প্রত্যেক কাজেই সহজ ব্যবহার করে কড়াকড়ি করে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনার শুরুতে বলা হয়েছে, আল্লাহ সেই বান্দাকে ভালোবাসেন, যে ক্রয় করতে, বিক্রয় করতে, ঋণ আদায় করতে এবং ঋণ উশুল করতে নরম ব্যবহার করে। এখানে ব্যবসার ভাষা হলো নম্রতা। এরপর মালিক রাহিমাহুল্লাহ কিছু লেনদেনের নিয়ম ব্যাখ্যা করেছেন। গণনা করে বিক্রি হয় এমন জিনিস গণনা করে কেনা ভালো। আবার কোনো পণ্য নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করলে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দেওয়ার শর্ত করা যায়। কিন্তু প্রতি দীনারে অনির্দিষ্ট হারে কমিশন হলে তা ধোঁকার কারণ হতে পারে, কারণ কত পাওয়া যাবে তা স্পষ্ট নয়। তাই এই অংশে দুটি শিক্ষা মিলেছে: মানুষের সাথে সহজ আচরণ এবং চুক্তির অঙ্ক পরিষ্কার রাখা। সৎ ব্যবসা মানে ভদ্রতা ও স্বচ্ছতা—দুটিই একসাথে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্রয়-বিক্রয় ও ঋণ আদায়ে নরম ব্যবহার প্রশংসনীয়।
- চুক্তিতে পারিশ্রমিক স্পষ্ট করে বলা উচিত।
- গণনাযোগ্য জিনিস গণনা করে নেওয়া নিরাপদ।
- অস্পষ্ট কমিশন ধোঁকার কারণ হতে পারে।
