৩৭/৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৫৫ - সন্তানের হেফাজতের অধিকার
যে পুরুষ নপুংসক তার এবং বাচ্চার মালিক কে হবে?
তালাকের পর সন্তানের হেফাজত: শিশুর কল্যাণের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৫৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৫৫
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُوْلُ: كَانَتْ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ امْرَأَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فَوَلَدَتْ لَهُ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ ثُمَّ إِنَّهُ فَارَقَهَا فَجَاءَ عُمَرُ قُبَاءً فَوَجَدَ ابْنَهُ عَاصِمًا يَلْعَبُ بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ فَأَخَذَ بِعَضُدِهِ فَوَضَعَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ عَلَى الدَّابَّةِ فَأَدْرَكَتْهُ جَدَّةُ الْغُلَامِ فَنَازَعَتْهُ إِيَّاهُ حَتَّى أَتَيَا أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ فَقَالَ عُمَرُ ابْنِي وَقَالَتْ الْمَرْأَةُ ابْنِي فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ خَلِّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ قَالَ فَمَا رَاجَعَهُ عُمَرُ الْكَلَامَ قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ وَهَذَا الْأَمْرُ الَّذِي آخُذُ بِهِ فِي ذَلِكَ.
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একজন আনসারী মেয়েলোক উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর গর্ভে একটি ছেলে সন্তান জন্মাল। তার নাম আসিম রাখা হয়েছিল। ইত্যবসরে উমর (রাঃ) ঐ স্ত্রীকে তালাক দিলেন। একদা উমর (রাঃ) মসজিদে কুবার বারান্দায় এ সন্তানকে অন্যান্য ছেলের সাথে খেলাধুলা করতে দেখতে পেলেন তিনি তার বাহুতে ধরে তাকে স্বীয় সাওয়ারীতে বসিয়ে নিলেন। আসিমের মাতামহী (নানী) তা দেখে উমরকে বাধা দিলেন এবং তার সাথে ঝগড়া করতে লাগলেন।অতঃপর উভয়ে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট এসে সন্তানের দাবি জানালেন। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন সন্তানটিকে উভয়ের মধ্যে ছেড়ে দাও (সে যাকে গ্রহণ করে তারই হবে)। উমর (রাঃ) এতে চুপ হয়ে গেলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, এ ক্ষেত্রে আমিও এই অভিমত পোষণ করি।
(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার (রা)-এর এক আনসারী স্ত্রী থেকে আসিম নামের একটি ছেলে জন্ম নেয়। পরে উমার (রা) তাকে তালাক দেন। একদিন তিনি কুবা মসজিদের বারান্দায় আসিমকে খেলতে দেখে নিজের বাহনে বসিয়ে নেন। তখন শিশুর নানী এসে বাধা দেন এবং বিষয়টি নিয়ে উভয়ে আবূ বাকর সিদ্দীক (রা)-এর কাছে যান। উমার (রা) বলেন, সে আমার ছেলে। নানীও সন্তানের দাবি করেন। আবূ বাকর (রা) বলেন, সন্তানটিকে উভয়ের মধ্যে ছেড়ে দাও। উমার (রা) আর কথা বাড়াননি। এই বর্ণনায় সন্তানের হেফাজত বা দেখাশোনার বিষয়ে কোমলতা ও বাস্তবতা দেখা যায়। শিশুকে শুধু মালিকানার মতো দাবি করা নয়; তার পরিচিত যত্ন, স্নেহ ও নিরাপত্তাও বিবেচ্য হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের হেফাজতে ঝগড়ার বদলে ন্যায়ভিত্তিক সমাধান দরকার।
- শিশুর পরিচিত যত্ন ও নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
- বড় সাহাবীরাও বিচার মেনে নিতেন।
- তালাকের পর সন্তানকে নিয়ে কঠোর টানাটানি করা উচিত নয়।
