৩৮/৭. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৭০ - রাকাবা ওয়াজিবা ও শর্ত করে কেনা দাস

আযাদ করা ওয়াজিব এমন দাস-দাসীকে কি কি কারণে বা শর্তে আযাদ করা বৈধ হয় না

রাকাবা ওয়াজিবা: শর্ত করে কেনা ও মুমিন দাস আযাদের বিধান

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৭০

حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ سُئِلَ عَنْ الرَّقَبَةِ الْوَاجِبَةِ هَلْ تُشْتَرَى بِشَرْطٍ فَقَالَ لَا ২৮৮১-قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الرِّقَابِ الْوَاجِبَةِ أَنَّهُ لَا يَشْتَرِيهَا الَّذِي يُعْتِقُهَا فِيمَا وَجَبَ عَلَيْهِ بِشَرْطٍ عَلَى أَنْ يُعْتِقَهَا لِأَنَّهُ إِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَلَيْسَتْ بِرَقَبَةٍ تَامَّةٍ لِأَنَّهُ يَضَعُ مِنْ ثَمَنِهَا لِلَّذِي يَشْتَرِطُ مِنْ عِتْقِهَا ২৮৮২-قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ أَنْ يَشْتَرِيَ الرَّقَبَةَ فِي التَّطَوُّعِ وَيَشْتَرِطَ أَنْ يُعْتِقَهَا.قَالَ مَالِك إِنَّ أَحْسَنَ مَا سُمِعَ فِي الرِّقَابِ الْوَاجِبَةِ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُعْتَقَ فِيهَا نَصْرَانِيٌّ وَلَا يَهُودِيٌّ وَلَا يُعْتَقُ فِيهَا مُكَاتَبٌ وَلَا مُدَبَّرٌ وَلَا أُمُّ وَلَدٍ وَلَا مُعْتَقٌ إِلَى سِنِينَ وَلَا أَعْمَى وَلَا بَأْسَ أَنْ يُعْتَقَ النَّصْرَانِيُّ وَالْيَهُودِيُّ وَالْمَجُوسِيُّ تَطَوُّعًا لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ ﴾ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً ﴿ فَالْمَنُّ الْعَتَاقَةُ.قَالَ مَالِك فَأَمَّا الرِّقَابُ الْوَاجِبَةُ الَّتِي ذَكَرَ اللهُ فِي الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لَا يُعْتَقُ فِيهَا إِلَّا رَقَبَةٌ مُؤْمِنَةٌ.قَالَ مَالِك وَكَذَلِكَ فِي إِطْعَامِ الْمَسَاكِينِ فِي الْكَفَّارَاتِ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُطْعَمَ فِيهَا إِلَّا الْمُسْلِمُونَ وَلَا يُطْعَمُ فِيهَا أَحَدٌ عَلَى غَيْرِ دِينِ الْإِسْلَامِ.

মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ-ইব্নু উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল যেই ক্রীতদাসকে আযাদ করা ওয়াজিব হয়েছে উহাকে (ক্রেতা কর্তৃক আযাদ করার) শর্তে ক্রয় করা যায় কি? তিনি বললেন, না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন ‘রাকাবা ওয়াজিব’ [ক্রীতদাস বা দাসীকে কোন ব্যাপারে আযাদ করা ওয়াজিব হলে উহাকে রাকাবা-ই ‘ওয়াজিবা’ বলা হয়। যেমন মানত এবং কাফফারাতে গোলাম আযাদ করা ওয়াজিব হয়] সম্বন্ধে যা আমি শুনেছি (তন্মধ্যে) সর্বাপেক্ষা সুন্দরতম (এই যে,) ‘রাকাবা-ই ওয়াজিব’-কে যে আযাদ করবে, সে আযাদী দেয়ার শর্ত করে ক্রয় করবে না। কারণ এইরূপ শর্ত করলে এ ‘রাকাবা’ পূর্ণ ‘রাকাবা’ হবে না, কেননা যে এইরূপ শর্ত করবে তার উদ্দেশ্যে বিক্রেতা মূল্য কমিয়ে দিবে (কাজেই রাকাবা অসম্পূর্ণ থাকবে)।মালিক (রহঃ) বলেন নফল নিয়্যত আযাদ করার জন্য গোলাম ক্রয় করতে যেয়ে আযাদ করবে বলে শর্ত করে ক্রয় করাতে কোন দোষ নেই। মালিক (রহঃ) বলেন ‘রিকাবে-ওয়াজিবা’ সম্পর্কে সবচাইতে সুন্দর যা আমি শুনেছি, (তা হল এই), উহাতে নাসরানী অথবা ইহুদী গোলাম আযাদ করা যাবে না। মুকাতাব (যে ক্রীতদাসকে অন্য কিছুর বিনিময়ে আযাদ করবে বলে ঠিক করা হয়েছে) ও মুদাব্বার (কর্তার মৃত্যুর পর যে ক্রীতদাস আযাদ)-কে অথবা যাকে কয়েক বৎসরের জন্য আযাদ করা হয়েছে উহাকে আযাদ করা যাবে না (আরও আযাদ করা যাবে না) উম্মু ওয়ালাদকে এবং অন্ধকেও না, তবে নফল রূপে নাসরানী, ইহুদী ও মজুসীকে আযাদ করাতে কোন দোষ নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কোরআন মাজীদে বলেছেন: **فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً.** এখানে মান্না (مَنًّا) হচ্ছে আযাদ করা।মালিক (রহঃ) বলেন ওয়াজিবরূপে যে ব্যাপারে ক্রীতদাসকে আযাদ করা হয়, যার উল্লেখ আল্লাহ্ তা‘আলা কোরআন মাজীদে বর্ণনা করেছেন, সেই সকল ব্যাপারে মু‘মিন ‘রাকাবা’-কেই আযাদ করতে হবে। মালিক (রহঃ) বলেন কাফফারাতে মিসকীনদেরকে ভোজ দেয়াতে মুসলমান মিসকীন ছাড়া অন্য কাউকেও ভোজ দেয়া ঠিক নয়, এই ব্যাপারে কোন অমুসলিমকে খাওয়াবে না।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৭০-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, যে ক্রীতদাসকে আযাদ করা ওয়াজিব হয়েছে, তাকে কি আযাদ করার শর্তে কেনা যাবে? তিনি বলেন, না। ইমাম মালিক (র) ব্যাখ্যায় বলেন, রাকাবা ওয়াজিব হলে শর্ত করে কিনলে তা পূর্ণ রাকাবা থাকে না, কারণ শর্তের কারণে বিক্রেতা দাম কমিয়ে দিতে পারে। তবে নফল আযাদীর জন্য এমন শর্তে কেনায় দোষ নেই বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াজিব আযাদীতে নাসরানী, ইহুদী, মুকাতাব, মুদাব্বার, উম্মে ওয়ালাদ, নির্দিষ্ট বছরের জন্য মুক্ত এবং অন্ধ—এদের আযাদ করা যাবে না; বরং কুরআনে উল্লেখিত ওয়াজিব ক্ষেত্রে মুমিন রাকাবা চাই। কাফফারার খাবারেও মুসলিম মিসকীনদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাকাবা ওয়াজিব হলে আযাদের শর্তে দাস কেনা উচিত নয়।
  • শর্তের কারণে রাকাবা পূর্ণ না থাকার আশঙ্কা উল্লেখ করা হয়েছে।
  • নফল আযাদীর বিধান ওয়াজিব আযাদীর মতো নয়।
  • কাফফারার ক্ষেত্রে মুমিন রাকাবা ও মুসলিম মিসকীনের কথা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন