৩৮/১০. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৭৫ - বারীরা (রা) ও অভিভাবকত্ব আযাদকারীর
যে আযাদ করবে অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তারই জন্য হবে
বারীরা (রা)-এর হাদিস: অভিভাবকত্ব হবে আযাদকারীর
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৭৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৭৫
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ بَرِيرَةُ فَقَالَتْ إِنِّي كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ فَأَعِينِينِي فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَنْكِ عَدَدْتُهَا وَيَكُونَ لِي وَلَاؤُكِ فَعَلْتُ فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا فَقَالَتْ لَهُمْ ذَلِكَ فَأَبَوْا عَلَيْهَا فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِ أَهْلِهَا وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فَقَالَتْ لِعَائِشَةَ إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِمْ ذَلِكَ فَأَبَوْا عَلَيَّ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمْ الْوَلَاءَ فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ قَضَاءُ اللهِ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللهِ أَوْثَقُ وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরা (রাঃ) (তার কাছে) এসে বললেন আমি আমার কর্তাদের সাথে প্রতি বৎসর এক উকীয়া (এক উকীয়াতে চল্লিশ দিরহাম হয়- আওজাস) হিসাবে (সর্বমোট) নয় উকীয়ার বিনিময়ে মুকাতাবত আযাদী লাভের কথা ঠিক) করেছি। আপনি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করুন। আয়িশা (রাঃ) বললেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করেন যে, আমি উহার ব্যবস্থা করি তবে উহা (আদায়) করব আর তোমার অভিভাবকত্ব আমার জন্য হবে। বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট গেলেন এবং এই বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করলেন। তারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন।বারীরা তাঁর কর্তাদের নিকট হতে যখন (ফিরে) এলেন তখন (আয়িশার গৃহে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বসা ছিলেন। বারীরা আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন আমি তাদের নিকট সেই কথা পেশ করেছিলাম। তারা ইহা অস্বীকার করেছে। কিন্তু যদি অভিভাবকত্ব (তাদের জন্য বহাল থাকে তবে তারা রাজী। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইহা শুনলেন। অতঃপর তাঁকে (আয়িশাকে) জিজ্ঞেস করলেন। আয়িশা ব্যাপারটি তাঁকে জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (এটা শুনে) বললেন, তুমি বারীরাকে (মূল্য পরিশোধ করে) গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য (অভিভাবকত্বের) শর্ত মেনে নাও, (কিন্তু উহা যেহেতু অবৈধ তাই স্বত্ব তারা পাবে না)। অভিভাবকত্ব হবে যে আযাদ করবে তার।তারপর আয়িশা (রাঃ) তাই করলেন অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের (সাহাবীদের) মাঝে কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও গুণ বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন লোকদের কি হল? তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, আর যেই সকল শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, উহা বাতিল বলে গণ্য হবে। যদিও শত শর্তও হয়ে থাকে। আল্লাহর হুকুমই গ্রহণযোগ্য, আল্লাহর শর্ত অতি দৃঢ়। (জেনে রাখুন) অভিভাবকত্ব তারই হবে যে আযাদ করবে।
(বুখারী ২১৬৮, মুসলিম ১৫০৪)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা (রা)-এর মুকাতাবত ও আযাদীর ঘটনা এসেছে। তিনি আয়িশা (রা)-এর কাছে সাহায্য চান। আয়িশা (রা) মূল্য পরিশোধ করে তাকে আযাদ করতে চান এবং অভিভাবকত্ব নিজের জন্য হবে—এ কথা বলেন। বারীরা তার কর্তাদের জানালে তারা রাজি হয়নি, তবে অভিভাবকত্ব নিজেদের জন্য রাখতে চায়। বিষয়টি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসে। তিনি আয়িশা (রা)-কে বলেন, বারীরাকে গ্রহণ কর এবং তাদের শর্ত মেনে নাও; কারণ অভিভাবকত্ব হবে যে আযাদ করে তার। এরপর তিনি লোকদের সামনে বলেন, আল্লাহর কিতাবে নেই এমন শর্ত বাতিল, যদিও শত শর্ত হয়। এখানে শর্তের বৈধতা, মুকাতাবত, আযাদী এবং ওয়ালা বা অভিভাবকত্বের মূলনীতি পরিষ্কার হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযাদীর অভিভাবকত্ব আযাদকারীর জন্য।
- আল্লাহর কিতাবের বাইরে অবৈধ শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
- মুকাতাব দাসীকে সাহায্য করা একটি বাস্তব কল্যাণের কাজ।
- লেনদেনে শর্ত থাকলেও শরয়ি নীতি তার ওপর প্রাধান্য পায়।
