৪০/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫০০ - মুদাব্বারের আযাদী, ঋণ ও সম্পদের বিধান
মুদাব্বার করণের বিবিধ প্রসঙ্গ
মুদাব্বারের আযাদী ও ঋণের বিধান: কর্তার মৃত্যুর পর কী হবে?
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫০০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫০০
قَالَ مَالِك فِي مُدَبَّرٍ قَالَ لِسَيِّدِهِ عَجِّلْ لِي الْعِتْقَ وَأُعْطِيكَ خَمْسِينَ مِنْهَا مُنَجَّمَةً عَلَيَّ فَقَالَ سَيِّدُهُ نَعَمْ أَنْتَ حُرٌّ وَعَلَيْكَ خَمْسُونَ دِينَارًا تُؤَدِّي إِلَيَّ كُلَّ عَامٍ عَشَرَةَ دَنَانِيرَ فَرَضِيَ بِذَلِكَ الْعَبْدُ ثُمَّ هَلَكَ السَّيِّدُ بَعْدَ ذَلِكَ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ قَالَ مَالِك يَثْبُتُ لَهُ الْعِتْقُ وَصَارَتْ الْخَمْسُونَ دِينَارًا دَيْنًا عَلَيْهِ وَجَازَتْ شَهَادَتُهُ وَثَبَتَتْ حُرْمَتُهُ وَمِيرَاثُهُ وَحُدُودُهُ وَلَا يَضَعُ عَنْهُ مَوْتُ سَيِّدِهِ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ الدَّيْنِقَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ دَبَّرَ عَبْدًا لَهُ فَمَاتَ السَّيِّدُ وَلَهُ مَالٌ حَاضِرٌ وَمَالٌ غَائِبٌ فَلَمْ يَكُنْ فِي مَالِهِ الْحَاضِرِ مَا يَخْرُجُ فِيهِ الْمُدَبَّرُ قَالَ يُوقَفُ الْمُدَبَّرُ بِمَالِهِ وَيُجْمَعُ خَرَاجُهُ حَتَّى يَتَبَيَّنَ مِنْ الْمَالِ الْغَائِبِ فَإِنْ كَانَ فِيمَا تَرَكَ سَيِّدُهُ مِمَّا يَحْمِلُهُ الثُّلُثُ عَتَقَ بِمَالِهِ وَبِمَا جُمِعَ مِنْ خَرَاجِهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيمَا تَرَكَ سَيِّدُهُ مَا يَحْمِلُهُ عَتَقَ مِنْهُ قَدْرُ الثُّلُثِ وَتُرِكَ مَالُهُ فِي يَدَيْهِ
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একজন মুদাব্বার তার কর্তাকে বলল, আমার আযাদী ত্বরান্বিত করুন। আমি (এর জন্য) আপনাকে কিস্তি কিস্তি করে পঞ্চাশ দীনার আদায় করব। তার কর্তা বলল, হ্যাঁ, তুমি আযাদ এবং তোমার উপর পঞ্চাশ দীনার আদায় করা জরুরী হল, প্রতি বৎসর দশ দীনার করে (কিস্তি আদায় করবে) ক্রীতদাস এতে সম্মত হল। অতঃপর এর এক অথবা দুই কিম্বা তিন দিন পর কর্তার মৃত্যু হল। মালিক (রহঃ) বলেন সে আযাদ হয়ে গিয়েছে এবং ঐ পঞ্চাশ দীনার তার জিম্মায় ঋণ রয়েছে এবং তার সাক্ষ্যদান গ্রহণযোগ্য হবে, তার ব্যক্তিমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হল। সে উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং তার উপর শরীয়তের বিধান জারি হবে। আর কর্তার মৃত্যুর কারণে তার জিম্মায় যে ঋণ রয়েছে উহার কিছুই কমান হবে না।মালিক (রহঃ) বলেন এক ব্যক্তি তার জনৈক গোলামকে মুদাব্বার করল। তারপর কর্তার মৃত্যু হল। আর তার সম্পদও রয়েছে নিকট ও দূরে। কিন্তু কর্তার নিকট যে মাল আছে উহা মুদাব্বার আযাদ হবার মতো যথেষ্ট নয়। তবে মুদাব্বারের আযাদী স্থগিত রাখা হবে। তার সম্পদও আটক থাকবে এবং ঐ সম্পদের খাজনা সঞ্চয় করা হবে। আর ইহা চালু থাকবে দূরবর্তী সম্পদ হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত।(এর পর বিবেচনা করা হবে) কর্তা যে মাল রেখে গিয়েছে যদি উহার এক-তৃতীয়াংশে (মুদাব্বারের মূল্যের) অর্থ যোগাড় হয় তবে সে তার সম্পদ ও সঞ্চিত খাজনাসহ আযাদ হয়ে যাবে। আর যদি কর্তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশে এর যোগাড় না হয় তবে কর্তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ দ্বারা মুদাব্বার হতে যতটুকু আযাদ হওয়া যায় ততটুকু তার আযাদ হয়ে যাবে এবং তার সম্পদ ছেড়ে তারই হাতে দেয়া হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫০০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মুদাব্বারের আযাদী, ঋণ এবং কর্তার রেখে যাওয়া সম্পদের হিসাব নিয়ে ইমাম মালিক (র)-এর বক্তব্য এসেছে। প্রথম ঘটনায় একজন মুদাব্বার তার কর্তাকে বলে, তার আযাদী তাড়াতাড়ি করে দিতে। বিনিময়ে সে পঞ্চাশ দীনার কিস্তিতে আদায় করবে। কর্তা তা মেনে তাকে আযাদ করে দেন এবং প্রতি বছর দশ দীনার করে পরিশোধের কথা ঠিক হয়। এরপর অল্প দিনের মধ্যেই কর্তার মৃত্যু হলেও ইমাম মালিক (র) বলেন, তার আযাদী বহাল থাকবে। পঞ্চাশ দীনার তার জিম্মায় ঋণ হিসেবে থাকবে। কর্তার মৃত্যুতে সেই ঋণ কমবে না। একই সঙ্গে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে, তার ব্যক্তিমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে, সে উত্তরাধিকার পাবে এবং তার উপর শরীয়তের বিধান জারি হবে। দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, যদি কর্তার কাছে নিকটবর্তী সম্পদ যথেষ্ট না থাকে, তবে দূরবর্তী সম্পদ আসা পর্যন্ত মুদাব্বারের আযাদী স্থগিত থাকবে। পরে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদে যদি তার আযাদীর ব্যবস্থা হয়, তবে সে সম্পদ ও সঞ্চিত খাজনাসহ আযাদ হবে। না হলে এক-তৃতীয়াংশ যতটুকু বহন করে, ততটুকুই আযাদ হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুক্তির মাধ্যমে আযাদী কার্যকর হলে কর্তার মৃত্যুতে সেই আযাদী বাতিল হয় না।
- আযাদীর বিনিময়ে নির্ধারিত ঋণ থাকলে তা জিম্মায় বহাল থাকে।
- আযাদ ব্যক্তি হিসেবে তার সাক্ষ্য, মর্যাদা, উত্তরাধিকার ও শরীয়তের বিধান কার্যকর হয়।
- মুদাব্বারের আযাদীর ক্ষেত্রে কর্তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ বিবেচনা করা হয়।
