৪০/৭. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫০৬ - উম্মে ওয়ালাদের জখমের খেসারত
উম্মে ওয়ালাদ কর্তৃক জখম প্রসঙ্গ
উম্মে ওয়ালাদের জখম ও দীয়্যতের সীমা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫০৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫০৬
قَالَ مَالِك فِي أُمِّ الْوَلَدِ تَجْرَحُ إِنَّ عَقْلَ ذَلِكَ الْجَرْحِ ضَامِنٌ عَلَى سَيِّدِهَا فِي مَالِهِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَقْلُ ذَلِكَ الْجَرْحِ أَكْثَرَمِنْ قِيمَةِ أُمِّ الْوَلَدِ فَلَيْسَ عَلَى سَيِّدِهَا أَنْ يُخْرِجَ أَكْثَرَ مِنْ قِيمَتِهَا وَذَلِكَ أَنَّ رَبَّ الْعَبْدِ أَوْ الْوَلِيدَةِ إِذَا أَسْلَمَ غُلَامَهُ أَوْ وَلِيدَتَهُ بِجُرْحٍ أَصَابَهُ وَاحِدٌ مِنْهُمَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ وَإِنْ كَثُرَ الْعَقْلُ فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ سَيِّدُ أُمِّ الْوَلَدِ أَنْ يُسَلِّمَهَا لِمَا مَضَى فِي ذَلِكَ مِنْ السُّنَّةِ فَإِنَّهُ إِذَا أَخْرَجَ قِيمَتَهَا فَكَأَنَّهُ أَسْلَمَهَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَحْمِلَ مِنْ جِنَايَتِهَا أَكْثَرَ مِنْ قِيمَتِهَا
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মে ওয়ালাদ যদি কাউকেও জখম করে তবে এই জখমের দীয়্যত কর্তাকে নিজ মাল হতে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু উম্মে ওয়ালাদের মূল্য হতে জখমের দীয়্যত যদি অধিক হয়, তবে কর্তার জিম্মায় উহার মূল্যের অধিক দেয়া জরুরি হবে না। কারণ ক্রীতদাস এবং দাসীর কর্তা উহাদের একজন কর্তৃক কাউকেও জখম করার দরুন যদি দাস বা দাসীকে জখমী ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করে দেয় তবে এর অতিরিক্ত তার উপর আর কিছু জরুরি হবে না। জখমের দীয়্যত বেশি হয়ে থাকলেও।কর্তা উম্মে ওয়ালাদকে জখমী ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করতে পারবে না, এটাই নিয়ম। আর যখন সে উম্মে ওয়ালাদের মূল্য দিয়ে দিল, তবে যেন সে উম্মে ওয়ালাদকেই সোপর্দ করে দিল, তার উপর এর অধিক কিছু জরুরি নয়। এটাই সুন্দরতম যা (এই বিষয়ে) আমি শুনেছি। কর্তার জিম্মায় উম্মে ওয়ালাদের মূল্যের অধিক কোন খেসারত বহন করার দায়িত্ব নেই।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫০৬-এর সারসংক্ষেপ
কোর টপিক: উম্মে ওয়ালাদ। এই হাদিসে উম্মে ওয়ালাদ কাউকে জখম করলে কর্তার আর্থিক দায়িত্ব কী হবে তা বলা হয়েছে। ইমাম মালিক (র) বলেন, জখমের দীয়্যত কর্তা নিজের মাল থেকে দেবে। তবে যদি দীয়্যতের পরিমাণ উম্মে ওয়ালাদের মূল্যের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে কর্তার উপর তার মূল্যের বেশি দেওয়া জরুরি হবে না। কারণ সাধারণ দাস বা দাসীর ক্ষেত্রে কর্তা তাকে জখমী ব্যক্তির কাছে সোপর্দ করলে এর বেশি দায়িত্ব থাকে না। কিন্তু উম্মে ওয়ালাদকে সোপর্দ করা যায় না; তাই তার মূল্য দেওয়া যেন তাকে সোপর্দ করার মতো ধরা হবে। হাদিসটি দীয়্যত, কর্তার দায়িত্ব এবং উম্মে ওয়ালাদের বিশেষ অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উম্মে ওয়ালাদ জখম করলে কর্তার উপর খেসারতের দায়িত্ব আসে।
- খেসারতের দায়িত্ব তার মূল্যের বেশি হবে না বলে এখানে বলা হয়েছে।
- উম্মে ওয়ালাদকে জখমী ব্যক্তির কাছে সোপর্দ করা যায় না।
- মূল্য পরিশোধকে সোপর্দ করার বিকল্প হিসেবে ধরা হয়েছে।
