৪১/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫১৪ - স্বামীর অভিযোগ ও নারীর স্বীকারোক্তি
প্রস্তরাঘাত করা
স্বামীর অভিযোগ যথেষ্ট নয়: স্বীকারোক্তির গুরুত্ব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫১৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫১৪
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِأَتَاهُ رَجُلٌ وَهُوَ بِالشَّامِ فَذَكَرَ لَهُ أَنَّهُ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَبَعَثَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ إِلَى امْرَأَتِهِ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَأَتَاهَا وَعِنْدَهَا نِسْوَةٌ حَوْلَهَا فَذَكَرَ لَهَا الَّذِي قَالَ زَوْجُهَا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَأَخْبَرَهَا أَنَّهَا لَا تُؤْخَذُ بِقَوْلِهِ وَجَعَلَ يُلَقِّنُهَا أَشْبَاهَ ذَلِكَ لِتَنْزِعَ فَأَبَتْ أَنْ تَنْزِعَ وَتَمَّتْ عَلَى الْاعْتِرَافِ فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ فَرُجِمَتْ
আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) যখন সিরিয়ায় ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে উল্লেখ করল যে, সে তার স্ত্রীর নিকট এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। উমর (রাঃ) আবূ ওয়াকিদ লাইসীকে ঐ স্ত্রীলোকটির নিকট জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন। আবূ ওয়াকিদ তার কাছে যেয়ে দেখলেন তার পাশে আরও কয়েকজন নারী বসে আছে। আবূ ওয়াকিদ স্ত্রীলোকটির নিকট তার স্বামী উমর (রাঃ)-এর কাছে যা বর্ণনা করেছে তা বললেন। তিনি ইহাও বললেন, তোমার স্বামীর কথায় তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না, যদি না তুমি স্বীকার কর। অতঃপর আরও এই জাতীয় নানা কথা তাকে শিখাতে লাগলেন, যাতে সে স্বীকার না করে। কিন্তু সে ইহা মানল না, বরং ব্যভিচারের কথা স্বীকার করল। অতঃপর উমর (রাঃ)-এর আদেশে তাকে প্রস্তরাঘাত করা হল।
(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
কোর টপিক: স্বীকারোক্তি। এই বর্ণনায় উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর কাছে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে যে সে তার স্ত্রীর কাছে এক পুরুষকে পেয়েছে। উমার (রা) আবূ ওয়াকিদ লাইসীকে সেই নারীর কাছে জিজ্ঞেস করতে পাঠান। আবূ ওয়াকিদ তাকে জানান, স্বামীর কথার কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না, যদি সে নিজে স্বীকার না করে। তিনি এমন কথাও বলেন, যাতে নারী স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু নারী স্বীকারোক্তিতে স্থির থাকে। এরপর উমার (রা)-এর আদেশে তাকে রজম করা হয়। এই হাদিসে অভিযোগ ও স্বীকারোক্তির পার্থক্য খুব পরিষ্কার। শুধু স্বামীর কথা শাস্তির জন্য যথেষ্ট ধরা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর অভিযোগ একা শাস্তির ভিত্তি হয়নি।
- নারীকে জানানো হয়েছে যে স্বীকার না করলে স্বামীর কথায় ধরা হবে না।
- স্বীকারোক্তি বিচারকাজে বড় ভূমিকা রেখেছে।
- অভিযোগের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাই প্রয়োজন।
