৪১/৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৩৪ - চোরের সুপারিশ ও বিচারকের কাছে মামলা
যখন চোর বিচারকের নিকট উপস্থিত হয়ে যায়, তখন তার জন্য সুপারিশ করা অবৈধ
চোরের সুপারিশ: বিচারকের কাছে পৌঁছানোর পর সতর্কতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৩৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ لَقِيَ رَجُلًا قَدْ أَخَذَ سَارِقًا وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِهِ إِلَى السُّلْطَانِ فَشَفَعَ لَهُ الزُّبَيْرُ لِيُرْسِلَهُ فَقَالَ لَا حَتَّى أَبْلُغَ بِهِ السُّلْطَانَ فَقَالَ الزُّبَيْرُ إِذَا بَلَغْتَ بِهِ السُّلْطَانَ فَلَعَنَ اللهُ الشَّافِعَ وَالْمُشَفِّعَ
রবী’আ ইবনু আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুবাইর ইব্নু আওয়াম এক ব্যক্তিকে দেখল, সে চোরকে ধরে বিচারকের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। যুবাইর বলল, তাকে ছেড়ে দাও। সে বলল, বিচারকের নিকট না নিয়ে আমি তাকে ছাড়ব না। যুবাইর বলল, তুমি তাকে বিচারকের কাছে নিয়ে গেলে সুপারিশকারী ও সুপারিশ মান্যকারীর উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। [১]
[১] বোঝা গেল বিচারালয়ে মুকাদ্দমা দায়ের হওয়ার পর সুপারিশ অবৈধ হয়ে যায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুবাইর ইব্নু আওয়াম (রা)-এর একটি বক্তব্য এসেছে। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে একজন চোরকে ধরে বিচারকের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। যুবাইর (রা) প্রথমে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু লোকটি জানায়, বিচারকের কাছে না নিয়ে সে ছাড়বে না। তখন যুবাইর (রা) বলেন, যখন তাকে শাসকের কাছে নিয়ে যাবে, তখন সুপারিশকারী ও সুপারিশ গ্রহণকারীর ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত। এই বর্ণনায় মূল শিক্ষা হলো—বিচারের আগে ক্ষমা বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে মামলা পৌঁছানোর পর সুপারিশ করে শাস্তি রোধ করা গুরুতর বিষয়। এখানে চুরি, সুপারিশ, বিচার ও দায়িত্ববোধ একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারকের কাছে মামলা পৌঁছানোর পর সুপারিশ করা সতর্কতার বিষয়।
- যুবাইর (রা) বিচারিক প্রক্রিয়াকে হালকা করেননি।
- চুরির ঘটনায় ক্ষমা ও সুপারিশের সময় আলাদা হতে পারে।
- বিচারিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো থেকে বাঁচতে হয়।
