৪৫/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৮১ - মদীনার ভবিষ্যৎ অবস্থা ও শিক্ষা
মদীনায় অবস্থান এবং তথা হতে প্রস্থান
মদীনার ভবিষ্যৎ অবস্থা: মদীনা ত্যাগের হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৮১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৮১
و حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ حِمَاسٍ عَنْ عَمِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَتُتْرَكَنَّ الْمَدِينَةُ عَلَى أَحْسَنِ مَا كَانَتْ حَتَّى يَدْخُلَ الْكَلْبُ أَوْ الذِّئْبُ فَيُغَذِّي عَلَى بَعْضِ سَوَارِي الْمَسْجِدِ أَوْ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ فَلِمَنْ تَكُونُ الثِّمَارُ ذَلِكَ الزَّمَان قَالَ لِلْعَوَافِي الطَّيْرِ وَالسِّبَاعِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অতি উত্তম অবস্থায় মদীনাকে ত্যাগ করা হবে, এমন কি তথায় কুকুর ও ব্যাঘ্র আসবে এবং মসজিদের খুঁটি ও মিম্বরে পেশাব করবে। সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ সময় মদীনার ফলমূল কে ভোগ করবে? তিনি বললেন, ক্ষুধার্ত জন্তুরা ও পশু পাখিরা। [১]
[১] এই অবস্থা কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হবে, যখন ইসলামের নাম-নিশানা থাকবে না, মদীনা উজাড় হয়ে যাবে।(বুখারী ১৮৭৪, মুসলিম ১৩৮৯)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার এক বিশেষ ভবিষ্যৎ অবস্থার কথা বলেছেন। হাদিসের মূল বিষয় হলো, এক সময় মদীনাকে তার ভালো অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়া হবে। তখন সেখানে মানুষের বসবাস এত কমে যাবে যে কুকুর বা নেকড়ে মসজিদের খুঁটি ও মিম্বরের কাছে আসবে। সাহাবায়ে কিরাম জানতে চেয়েছিলেন, তখন মদীনার ফলমূল কারা ভোগ করবে। উত্তরে বলা হয়েছে, ক্ষুধার্ত জন্তু, পশু-পাখি সেগুলো খাবে। মদীনার ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়ে এই বর্ণনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দুনিয়ার কোনো জায়গার বাহ্যিক সৌন্দর্য স্থায়ী নয়। আল্লাহর ইচ্ছায় জনপদের অবস্থা বদলাতে পারে। তাই মদীনার ফজিলত বুঝলেও মানুষকে দুনিয়ার অস্থায়ী জীবন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার জনপদ ও সৌন্দর্য স্থায়ী নয়; আল্লাহ চাইলে অবস্থার পরিবর্তন হয়।
- মদীনার মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও হাদিসে তার এক ভবিষ্যৎ অবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
- মানুষের ব্যবহার কমে গেলে জমিনের ফলমূল পশু-পাখির খাদ্য হতে পারে।
- ভবিষ্যৎ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তা ঈমানের সাথে গ্রহণ করা উচিত।
