৪৫/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৮৭ - মদীনার ভালোবাসা ও বরকতের দোয়া
মদীনার মহামারী সম্বন্ধে বর্ণনা
মদীনার ভালোবাসা ও বরকতের দোয়া: হিজরতের পরের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৮৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৮৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وُعِكَ أَبُو بَكْرٍ وَبِلَالٌ قَالَتْ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِمَا فَقُلْتُ يَا أَبَتِ كَيْفَ تَجِدُكَ وَيَا بِلَالُ كَيْفَ تَجِدُكَ قَالَتْ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ إِذَا أَخَذَتْهُ الْحُمَّى يَقُولُ كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِوَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِوَكَانَ بِلَالٌ إِذَا أُقْلِعَ عَنْهُ يَرْفَعُ عَقِيرَتَهُ فَيَقُولُ أَلَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةًبِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُوَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجِنَّةٍوَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُقَالَتْ عَائِشَةُ فَجِئْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ اللهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا وَانْقُلْ حُمَّاهَا فَاجْعَلْهَا بِالْجُحْفَةِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এলেন, তখন আবূ বাকর ও বেলালের (রাঃ) জ্বর আসতে শুরু করল। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি উভয়ের কাছে গেলাম। আমি বললাম, হে আব্বা আপনার অবস্থা কিরূপ? হে বেলাল! আপনার অবস্থা কিরূপ?আয়িশা (রাঃ) বলেন, আবূ বাক্রের যখন জ্বর আসত, তিনি বলতেন, كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ “প্রত্যেকে নিজের পরিজনের মধ্যে প্রভাত করে আর মৃত্যু তার জুতার ফিতার চাইতেও তার অতি নিকটে থাকে” আর যখন বেলালের জ্বর হত, তখন তিনি উচ্চৈঃস্বরে এই কবিতা পড়তেন, أَلَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجِنَّةٍ وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ হায় যদি আমি জানতে পারতাম যে, কখনও আমি এক রাত্রির জন্যও মক্কার উপত্যকায় রাত্রি যাপন করতে পারব। আর আমার চতুষ্পার্শ্বে ইয্খির ও জলিল নামক ঘাস থাকবে। আর পুনরায় কখনও মাজিন্না কুয়ার নিকট যেতে পারব, আর পুনরায় কখনও শামা ও তফীল পাহাড় আমার দৃষ্টিগোচর হবে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি ইহা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করলাম।তিনি দোয়া করলেন, اللهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا وَانْقُلْ حُمَّاهَا فَاجْعَلْهَا بِالْجُحْفَةِ হে আল্লাহ্! আমাদের মনে মদীনার মুহব্বত এইরূপ করে দিন, যেরূপ মক্কার মুহব্বত রয়েছে, বরং উহা হতেও প্রগাঢ় ভালবাসা। আর মদীনাকে স্বাস্থ্যকর করে দিন। উহার সা‘ ও মুদ্দে বরকত দিন, উহার জ্বর অন্যত্র নিয়ে যান এবং উহার জ্বরকে জুহফাতে সরিয়ে দিন। [১]
[১] ইয্খির ও জালীল-মক্কার ঘাসের নাম। মাজান্না মক্কার অদূরে এক স্থানের নাম। এখানে জাহিলিয়াতের যুগে মেলা বসত। শামা ও তফীল মক্কার তিন মাইল দূরে দুইটি পাহাড়। জুহফা মক্কা হতে ৮২ মাইল দূরে একটি লোকালয়ের নাম, তখন তথায় ইহুদীরা বাস করত। এই জ্বর মদীনা হতে কদাকার একটি স্ত্রীলোকের মতো হয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। এক ব্যক্তি উহাকে রাস্তায় দেখেছে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর কখনও মদীনায় জ্বর প্রত্যাবর্তন করিবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ বর্ণনায় দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পর আবূ বাকর রা. ও বিলাল রা. জ্বরে আক্রান্ত হন। আয়িশা রা. তাঁদের কাছে গিয়ে অবস্থা জানতে চান। জ্বরের সময় আবূ বাকর রা. মৃত্যু নিকট হওয়ার কথা স্মরণ করে কবিতা বলতেন। বিলাল রা. মক্কার পরিচিত উপত্যকা, ঘাস, পানি ও পাহাড়ের কথা স্মরণ করতেন। আয়িশা রা. এসব কথা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানান। তখন তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন মদীনাকে তাঁদের কাছে মক্কার মতো, বরং তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দেন; মদীনাকে স্বাস্থ্যকর করেন; তার সা ও মুদ্দে বরকত দেন; এবং জ্বরকে জুহফার দিকে সরিয়ে দেন। এই হাদিসে মদীনার ভালোবাসা, অসুস্থতায় দোয়া এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়ার সুন্দর শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থতা ও কষ্টের সময়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা নববী শিক্ষা।
- মদীনার ভালোবাসা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার মাধ্যমে চেয়েছেন।
- রিজিকের মাপে বরকত এবং শহরের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়েছে।
- মানুষ নতুন স্থানে গেলে পুরোনো জায়গার স্মৃতি মনে আসতে পারে; এর সমাধান দোয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে আসে।
