৪৯/১০. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৬৮ - ভালো কথা, প্রতিবেশী ও মেহমানের হক
পানাহার সম্বন্ধীয় বিবিধ বর্ণনা
ভালো কথা বা নীরবতা: প্রতিবেশী ও মেহমানের হক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৬৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৬৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَضِيَافَتُهُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ
আবূ শুরাইহ আল কাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও কেয়ামতের উপর ঈমান এনেছে, সে যেন ভাল কথা বলে নতুবা নীরব থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও কেয়ামত দিবসের উপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও কেয়ামত দিবসের উপর ঈমান এনেছে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে। একদিন এক রাত ভাল মতো মেহমানদারী করবে এবং তিন দিন পর্যন্ত যা আছে, তা দিয়েই মেহমানদারী করবে। এর পরও মেহমানদারী করতে পারলে সাদাকা করার সওয়াব পাবে। আর মেহমানের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, মেজবানকে (যার কাছে মেহমান হয়েছে তাকে) কষ্ট দিয়ে বেশি দিন তার কাছে অবস্থান করবে। [১]
[১] অর্থাৎ মেহমান এলে তাকে হাসিমুখে স্বাগত জানাবে, তার আরামে থাকার ব্যবস্থা করবে, সাধ্যমতো ভাল খাবার খাওয়াবে এবং কুশলবার্তা জিজ্ঞেস করবে। তিনদিন পর্যন্ত মেহমানদারী করা সুন্নত। এর অধিক সওয়াবের কাজ বটে।(বুখারী ৬০১৯, মুসলিম ৪৮)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের সঙ্গে তিনটি আচরণকে জুড়ে দিয়েছেন। যে আল্লাহ ও কিয়ামতের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। সে যেন প্রতিবেশীকে সম্মান করে। সে যেন মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানদারীর ব্যাপারে একদিন এক রাত ভালোভাবে আপ্যায়নের কথা এসেছে এবং তিন দিন পর্যন্ত যা আছে তা দিয়ে মেহমানদারীর কথা বলা হয়েছে। এরপর অতিরিক্ত করলে তা সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে মেহমানকেও সতর্ক করা হয়েছে, যেন সে মেজবানকে কষ্ট দিয়ে বেশি দিন অবস্থান না করে। এই হাদিসে কথা, প্রতিবেশী ও মেহমানদারীর ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো কথা বলা বা নীরব থাকা ঈমানি আচরণের অংশ।
- প্রতিবেশীকে সম্মান করা মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- মেহমানদারীতে মেজবান ও মেহমান—দুজনেরই আদব আছে।
