৩/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৭ - তাকবীরে তাহরীমা ও নিয়তের গুরুত্ব
নামাযের আরম্ভ
তাকবীরে তাহরীমা: নামাজ শুরুতে নিয়ত ও সতর্কতার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ، إِذَا أَدْرَكَ الرَّجُلُ الرَّكْعَةَ فَكَبَّرَ تَكْبِيرَةً وَاحِدَةً أَجْزَأَتْ عَنْهُ تِلْكَ التَّكْبِيرَةُ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ إِذَا نَوَى بِتِلْكَ التَّكْبِيرَةِ افْتِتَاحَ الصَّلَاةِ২৫৩و سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ مَعَ الْإِمَامِ فَنَسِيَ تَكْبِيرَةَ الْافْتِتَاحِ وَتَكْبِيرَةَ الرُّكُوعِ حَتَّى صَلَّى رَكْعَةً ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ كَبَّرَ تَكْبِيرَةَ الْافْتِتَاحِ وَلَا عِنْدَ الرُّكُوعِ وَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَالَ يَبْتَدِئُ صَلَاتَهُ أَحَبُّ إِلَيَّ وَلَوْ سَهَا مَعَ الْإِمَامِ عَنْ تَكْبِيرَةِ الْافْتِتَاحِ وَكَبَّرَ فِي الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ رَأَيْتُ ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ إِذَا نَوَى بِهَا تَكْبِيرَةَ الْافْتِتَاحِ২৫৫قَالَ مَالِك فِي الَّذِي يُصَلِّي لِنَفْسِهِ فَنَسِيَ تَكْبِيرَةَ الْافْتِتَاحِ إِنَّهُ يَسْتَأْنِفُ صَلَاتَهُ و قَالَ مَالِك فِي إِمَامٍ يَنْسَى تَكْبِيرَةَ الْافْتِتَاحِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ قَالَ أَرَى أَنْ يُعِيدَ وَيُعِيدُ مَنْ خَلْفَهُ الصَّلَاةَ وَإِنْ كَانَ مَنْ خَلْفَهُ قَدْ كَبَّرُوا فَإِنَّهُمْ يُعِيدُونَ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি এক রাকআত নামাজ পায় এবং একবার তাকবির বলে তার জন্য ঐ এক ‘তাকবির’ যথেষ্ট হবে। ইয়াহিয়া (রহঃ) মালিক (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন; ঐ এক ‘তাকবির’ই যথেষ্ট হবে যদি সে উক্ত তাকবির দ্বারা ‘তাকবির-এ তাহরীমা’-এর নিয়ত করে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) ইয়াহিয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত; মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হল এক ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাজে শরীক হল কিন্তু সে ‘তাকবির-এ তাহরীমা’ ও রুকূর তাকবির বলেনি।অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে সে ‘তাকবির’ বলল। তার কি করা উচিত? তিনি উত্তর দিলেন সে ব্যক্তির জন্য নামাজ শুরু হতে নতুন করে আদায় করা আমি ভাল মনে করি। আর যদি কোন ব্যক্তি ইমামের সাথে ‘তাকবির’-এ-তাহরীমা’ বলতে ভুলে যায়, প্রথম রুকূর সময় ‘তাকবির’ বলে, রুকূর তাকবিরের সাথে ‘তাকবির-এ-তহরীমা’রও নিয়ত করে, তবে আমার মতে উক্ত রুকূর ‘তাকবির’ই তার জন্য যথেষ্ট হবে।ইয়াহিয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত; মালিক (রহঃ)-বলেছেন, যে ব্যক্তি একা একা নামাজ আদায় করেছে সে ‘তাকবির-এ-তাহরীমা’ ভুলে গেলে তাকে নামাজ নতুন করে আদায় করতে হবে। ইয়াহিয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত; মালিক (রহঃ)-বলেছেন, ইমাম যদি ‘তাকবির-এ-তাহরীমা’ বলতে ভুলে গেলেন এবং নামাজ সমাপ্ত করলেন, তবে আমার মতে ইমাম ও ‘মুকতাদী’ দু’জনের নামাজ পুনরায় পড়া উচিত, এমন কি মুকতাদীগণ ‘তাকবির’ বলে থাকলেও।
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় তাকবীরে তাহরীমা নিয়ে ইমাম মালিক রঃ-এর মত ও ব্যাখ্যা এসেছে। বলা হয়েছে, কেউ যদি এক রাকআত পায় এবং একবার তাকবীর বলে, তবে সেই তাকবীর যথেষ্ট হতে পারে—যদি সে ওই তাকবীর দ্বারা নামাজ শুরু করার নিয়ত করে। আবার কেউ ইমামের সাথে নামাজে ঢুকে তাকবীরে তাহরীমা ও রুকূর তাকবীর ভুলে গেলে, পরে কী করবে—সে বিষয়ে সতর্ক মত দেওয়া হয়েছে। একা নামাজ পড়লে তাকবীরে তাহরীমা ভুলে গেলে নতুন করে নামাজ পড়ার কথা বলা হয়েছে। ইমাম ভুলে গেলে ইমাম ও মুকতাদীদের নামাজ পুনরায় পড়া উচিত বলা হয়েছে। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো নামাজ শুরু করার তাকবীর ও নিয়তকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকবীরে তাহরীমা নামাজ শুরু করার মূল দরজা হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
- এক তাকবীর যথেষ্ট হতে পারে, যদি নামাজ শুরু করার নিয়ত থাকে।
- নামাজে ভুল হলে কী করতে হবে—এ বিষয়ে সতর্কভাবে শেখা দরকার।
- ইমামের ভুল মুকতাদীদের নামাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এ মত এখানে এসেছে।
