৫০/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৮৮ - বদনজরের জন্য ঝাড়ফুঁকের অনুমতি
বদ নজরের জন্য ঝাড়ফুঁক করা প্রসঙ্গে
বদনজরের জন্য ঝাড়ফুঁক: রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর অনুমতি ও সতর্ক শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬৮৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬৮৮
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ الْمَكِّيِّ أَنَّهُ قَالَدُخِلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِابْنَيْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لِحَاضِنَتِهِمَا مَا لِي أَرَاهُمَا ضَارِعَيْنِ فَقَالَتْ حَاضِنَتُهُمَا يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُ تَسْرَعُ إِلَيْهِمَا الْعَيْنُ وَلَمْ يَمْنَعْنَا أَنْ نَسْتَرْقِيَ لَهُمَا إِلَّا أَنَّا لَا نَدْرِي مَا يُوَافِقُكَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَرْقُوا لَهُمَا فَإِنَّهُ لَوْ سَبَقَ شَيْءٌ الْقَدَرَ لَسَبَقَتْهُ الْعَيْنُ
হুমাইদ ইবনু কাইস মক্কী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জা‘ফর ইব্নু আবী তালিব (রাঃ)-এর দুইটি ছেলেকে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আয়া (মহিলা খাদেম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, এই ছেলেরা এত জীর্ণশীর্ণ (দুর্বল) কেন? আয়া উত্তর দিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের উপর খুব তাড়াতাড়ি (খুব সহজেই) বদ নজর লেগে যায়। আর তাদেরকে কোন রকম ঝাড়ফুঁক করাইনি। কারণ হয়ত বা আপনি উহা পছন্দ করেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের জন্য ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা কর। কেননা যদি কোন বস্তু তকদীরের (কপালের লেখার) অগ্রে কোন কর্ম সম্পন্ন করতে পারত, তবে উহা বদনজর। [১]
[১] তকদীরে যা লেখা আছে তাই হয়। বদ নজরও তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত। তাবীয-দু‘আ ও ঝাড়ফুঁক ইত্যাদিতে যদি শরীআত-বিরুদ্ধ কোন শব্দ বা বাক্য না থাকে, তবে ঐসব তাবীয-দু‘আ ঝাড়ফুঁক করানোতে ক্ষতির কিছু নেই।(সহীহ, তিরমিযী ২০৫৯, ইবনু মাজাহ ৩৫১০, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সিলসিলা সহীহা ১২৫২] এবং ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জা‘ফর ইব্নু আবী তালিব (রা)-এর দুই ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনার ঘটনা আছে। তিনি তাঁদের দুর্বল দেখে আয়ার কাছে কারণ জানতে চান। আয়া বলেন, তাঁদের খুব সহজে বদনজর লাগে, কিন্তু তিনি ঝাড়ফুঁক করাননি; কারণ রাসূল صلى الله عليه وسلم তা পছন্দ করবেন কি না জানতেন না। তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন, তাদের জন্য ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা কর। এরপর তিনি বদনজরের প্রভাব সম্পর্কে জোরালো কথা বলেন। এই হাদিসে বোঝা যায়, বদনজরের জন্য বৈধ ঝাড়ফুঁক করা যায়। তবে এখানে কোনো অজানা মন্ত্র, শিরক বা কুসংস্কারের কথা নেই। বরং রোগ বা বদনজরের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রুকইয়া গ্রহণের শিক্ষা আছে। একই সঙ্গে সব কিছু আল্লাহর তাকদীরের অধীন—এ কথাও এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বদনজরের জন্য বৈধ ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়া করা যায়।
- কোনো চিকিৎসা বা রুকইয়া গ্রহণের আগে শরীয়তের সীমা জানা জরুরি।
- বদনজর বাস্তব হলেও সব কিছু আল্লাহর তাকদীরের অধীন।
- শিশু বা দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রে যত্ন ও দোয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
