৫৬/৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৯১ - ইশার পর কথা কমানোর ইঙ্গিত
অনর্থক কথা বলার দোষ প্রসঙ্গ
ইশার পর অপ্রয়োজনীয় কথা কমানোর শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭৯১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭৯১
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ تُرْسِلُ إِلَى بَعْضِ أَهْلِهَا بَعْدَ الْعَتَمَةِ فَتَقُولُ أَلَا تُرِيحُونَ الْكُتَّابَ
বর্ণণাকারী হতে বর্ণিতঃ
নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) ইশার নামাজের পর আপনজনদের কাছে বলে পাঠাতেন যে, লেখক ফেরেশতাদেরকে এখনও আরাম (অবসর) দিবে না? [১]
[১] অর্থাৎ ইশার পর অনর্থক গল্প করো না। সম্মানিত লেখক ফেরেশতাকে অবসর দান কর এবং শুইয়া পড়। অনর্থক বিলম্বে শুইলে সকালে জাগ্রত হতে পারবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়িশা (রাঃ)-এর একটি আমল উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ইশার নামাযের পর আপনজনদের কাছে বলে পাঠাতেন—লেখক ফেরেশতাদেরকে কি আরাম দেবে না? এখানে সরাসরি বোঝা যায়, রাতের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা কমানোর প্রতি তিনি মানুষকে সতর্ক করতেন। মানুষের কথা ও কাজ লিখে রাখা হয়—এই ভাবনা একজন মুমিনকে নিজের ভাষা নিয়ে সচেতন করে। ইশার পর সময়টি বিশ্রাম, ইবাদত বা নীরবতার জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে—এই ইঙ্গিতও বর্ণনায় আছে। তবে হাদিসের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত বিধান বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, কথা বলার ক্ষেত্রেও হিসাব আছে; তাই রাতের আড্ডা, অপ্রয়োজনীয় কথা ও গুনাহের সম্ভাবনা থেকে জিহ্বাকে বাঁচানো উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশার পর অপ্রয়োজনীয় কথা কমানো ভালো অভ্যাস।
- লেখক ফেরেশতারা মানুষের কথা ও কাজ লিখে রাখেন—এটি মনে রাখা দরকার।
- রাতের সময় জিহ্বা সংযমের প্রতি বেশি সতর্ক থাকা উচিত।
- কথা বলার আগে হিসাবের অনুভূতি রাখা মুমিনকে সাবধান করে।
