৫৬/৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৯৩ - জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের ফজিলত
জিহ্বার গুনাহ প্রসঙ্গে
জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত সম্পর্কে হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭৯৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭৯৩
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ وَقَاهُ اللهُ شَرَّ اثْنَيْنِ وَلَجَ الْجَنَّة فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ لَا تُخْبِرْنَا فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ عَادَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لَا تُخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللهِ فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا فَقَالَ الرَّجُلُ لَا تُخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا ثُمَّ ذَهَبَ الرَّجُلُ يَقُولُ مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى فَأَسْكَتَهُ رَجُلٌ إِلَى جَنْبِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَقَاهُ اللهُ شَرَّ اثْنَيْنِ وَلَجَ الْجَنَّةَ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ
আতা ইব্নু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে দুইটি জিনিসের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবেন সে বেহেশতে যাবে। (ইহা শুনে) এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! সে দুটি জিনিস কি আপনি আমাদেরকে বলবেন না? অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নীরব হয়ে গেলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সেই প্রথম কথা পুনরাবৃত্তি করলেন। লোকটি আবার বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমাদেরকে উহা বলবেন না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব হয়ে গেলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় সেই কথা বললেন। লোকটি আবার বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমাদেরকে বলবেন না? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আবার সেই কথা বললেন। লোকটিও আবারও একই কথা বলতে চাইলে লোকটির পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি তাকে চুপ করাল।অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই বললেন, “আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে দুটি জিনিসের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবেন সে বেহেশতে যাবে। একটি হল দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা) অপরটি হল দুই রানের মধ্যবর্তী বস্তু” (লজ্জাস্থান)। এই কথাটি তিনবার বললেন। [১]
[১] অর্থাৎ জিহ্বা সংযত রাখ এবং চরিত্রের হিফাযত কর। (সহীহ, বুখারী ৬৪৭৪, সাহল বিন সাদ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন- তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ যাকে দুটি জিনিসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন, সে জান্নাতে যাবে। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন—একটি হলো দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু, অর্থাৎ জিহ্বা; আরেকটি হলো দুই রানের মাঝের বস্তু, অর্থাৎ লজ্জাস্থান। তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন, যা বিষয়টির গুরুত্ব বোঝায়। জিহ্বা দিয়ে গীবত, মিথ্যা, অপবাদ, কটু কথা হতে পারে। আবার লজ্জাস্থানের ভুল ব্যবহার মানুষকে বড় পাপে ফেলতে পারে। তাই এই হাদিসে আত্মসংযমের দুটি বড় দিক শেখানো হয়েছে। একজন মুমিন নিজের ভাষা ও চরিত্রকে রক্ষা করার চেষ্টা করে, আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় এবং পাপের পথ থেকে দূরে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহ্বা হেফাজত জান্নাতের পথে গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- লজ্জাস্থান হেফাজত করা চরিত্র রক্ষার বড় অংশ।
- রাসূলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি বারবার বলে এর গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।
- বড় পাপ থেকে বাঁচতে আত্মসংযম দরকার।
