৫৮/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৮১৩ - হালাল উপার্জনের সাদাকাহ
সাদাকাহ্ প্রদানের উৎসাহ প্রসঙ্গে
হালাল উপার্জন থেকে সাদাকাহ: কবুল হওয়ার সুন্দর শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮১৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৮১৩
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي الْحُبَابِ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلَا يَقْبَلُ اللهُ إِلَّا طَيِّبًا كَانَ إِنَّمَا يَضَعُهَا فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ يُرَبِّيهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ
সাঈদ ইব্নু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল থেকে সাদাকাহ্ করে, আল্লাহ্ তা‘আলা শুধুমাত্র হালাল অর্থাৎ পবিত্রকেই কবুল করেন-- তা হলে উক্ত সাদাকাহ্ সে আল্লাহ্র হাতে দিল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে এভাবে লালন-পালন করেন, যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উটের বাচ্চা লালন-পালন কর। শেষ পর্যন্ত সেই সাদাকাহ্ (বর্ধিত হয়ে) পর্বতসমান হয়ে যায়।
(বুখারী ৭৪৩০, ইমাম মুসলিম ইবনু আব্বাস থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন ১০১৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৮১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদাকাহর সঙ্গে হালাল উপার্জনের সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল থেকে সাদাকাহ করে, আর আল্লাহ শুধু পবিত্র জিনিসই কবুল করেন, তাহলে সেই সাদাকাহ যেন আল্লাহর হাতে দেওয়া হলো। আল্লাহ সেটিকে লালন-পালন করেন, যেমন কেউ ঘোড়ার বাচ্চা বা উটের বাচ্চা লালন করে। শেষ পর্যন্ত সেই সাদাকাহ পর্বতসমান হয়ে যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দানের পরিমাণের পাশাপাশি উপার্জনের পবিত্রতাও গুরুত্বপূর্ণ। হারাম বা সন্দেহজনক পথে অর্জিত সম্পদ দিয়ে বাহ্যিক দান করলে তা হাদিসের এই মর্যাদার মধ্যে পড়ে না। তাই মুমিনের উচিত হালাল কামাই করা এবং সেই হালাল সম্পদ থেকে আল্লাহর পথে দান করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাদাকাহ কবুলের জন্য হালাল উপার্জন গুরুত্বপূর্ণ।
- আল্লাহ পবিত্র জিনিস কবুল করেন—এ কথা হাদিসে স্পষ্ট এসেছে।
- হালাল সম্পদ থেকে দেওয়া দান আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায়।
- দান করার আগে উপার্জনের উৎসের দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
