৪/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২১৬ - শয়তানের বিভ্রান্তি ও সাহু সিজদা
ভুলভ্রান্তি হলে কি করণীয়
নামাজে শয়তানের বিভ্রান্তি হলে সাহু সিজদা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২১৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২১৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي جَاءَهُ الشَّيْطَانُ فَلَبَسَ عَلَيْهِ حَتَّى لَا يَدْرِيَ كَمْ صَلَّى فَإِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (এমনও হয়) তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন শয়তান উপস্থিত হয়; অতঃপর তার উপর ইলতিবাস [১] সৃষ্টি করে। ফলে সে কত রাক’আত পড়েছে তা স্মরণ করতে পারে না। তোমাদের কেউ এইরূপ অবস্থার সম্মুখীন হলে তবে সে যেন বসা অবস্থায়ই দুটি (সহু) সিজদা করে নেয়।
[১] التباس (ইলতিবাস): অস্পষ্টতা, বিজড়ন, জটিলতা। (বুখারী ১২৩২, মুসলিম ৩৮৯)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজে ভুলে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে শয়তানের বিভ্রান্তির কথা এসেছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ নামাজে দাঁড়ালে শয়তান আসে এবং তার উপর এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, সে কত রাকাআত পড়েছে তা জানে না। এমন অবস্থার সম্মুখীন হলে সে বসা অবস্থায় দুইটি সাহু সিজদা করবে। এই বর্ণনা মুসল্লিকে বাস্তব শিক্ষা দেয়: নামাজে ভুল বা সন্দেহ হলে নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সুন্নাহ অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এখানে শয়তানের কুমন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু করণীয়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই নামাজে রাকাআত ভুলে গেলে আতঙ্ক নয়; বরং নিয়ম জানলে নামাজ ঠিকভাবে শেষ করা সহজ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শয়তান নামাজে রাকাআত নিয়ে বিভ্রান্তি আনতে পারে।
- রাকাআত ভুলে গেলে বসা অবস্থায় দুই সাহু সিজদার শিক্ষা আছে।
- নামাজে সন্দেহ হলে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা উচিত।
- কুমন্ত্রণায় অস্থির না হয়ে নামাজ পূর্ণ করার চেষ্টা দরকার।
