৫/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২২৮ - খুতবার সময় হাঁচির জবাব
জুম‘আ দিবসে ইমামের খুতবা পাঠ করার সময় চুপ থাকার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে
জুমার খুতবার সময় হাঁচির জবাব: নীরবতার সূক্ষ্ম আদব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২২৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২২৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا عَطَسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَشَمَّتَهُ إِنْسَانٌ إِلَى جَنْبِهِ فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَنَهَاهُ عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ لَا تَعُدْ ১১و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ الْكَلَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذَا نَزَلَ الْإِمَامُ عَنْ الْمِنْبَرِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার) জুমার দিন এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়েছে, তখন ইমাম খুতবা পড়ছিলেন, তার পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তি হাঁচির উত্তরে ‘ইয়ারহামুকুল্লাহ’ বলল, তখন সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। অতঃপর তাকে নিষেধ করলেন এবং ভবিষ্যতে এইরূপ না করার জন্য বলে দিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন, জুমার দিন (তাকবির বলার পূর্বে) যখন ইমাম মিম্বর হতে অবতরণ করেন, তখন কথা বলা সম্পর্কে তিনি ইবনু শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করলেন, (উত্তরে) ইবনু শিহাব (রহঃ) বললেন, এতে কোন দোষ নেই।
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় জুমার খুতবার সময় নীরব থাকার আরেকটি সূক্ষ্ম দিক এসেছে। একজন ব্যক্তি হাঁচি দিলেন, তখন ইমাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তাঁর পাশে থাকা একজন ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন। পরে সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র.) বিষয়টি জিজ্ঞেস করে তাঁকে নিষেধ করলেন এবং ভবিষ্যতে এমন না করতে বললেন। সাধারণ অবস্থায় হাঁচির জবাব দেওয়া ভালো আদব, কিন্তু এই বর্ণনায় দেখা যায়, খুতবার সময় কথা এড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই বর্ণনার শেষ অংশে ইমাম মিম্বর থেকে নামার পর, তাকবীরের আগে কথা বলা নিয়ে ইবনু শিহাব (র.) বলেন, এতে দোষ নেই। তাই হাদিসটি খুতবার সময় এবং খুতবা শেষের পরের সময়ের পার্থক্য বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবার সময় হাঁচির জবাব দেওয়ার মতো কথাও এড়িয়ে চলার শিক্ষা আছে।
- জুমার খুতবার নীরবতা খুব সূক্ষ্মভাবে রক্ষা করা উচিত।
- ইমাম মিম্বর থেকে নামার পর তাকবীরের আগে কথা বলা সম্পর্কে আলাদা আলোচনা এসেছে।
- ভালো কথা হলেও খুতবার সময় তা বলা থেকে বিরত থাকা দরকার।
