৭/৩. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৬০ - পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজ ও বিতর প্রসঙ্গ

বিতর (নামায)-এর নির্দেশ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরযিয়ত: বিতর প্রসঙ্গে উবাদা রাঃ-এর বর্ণনা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৬০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي كِنَانَةَ يُدْعَى الْمُخْدَجِيَّ سَمِعَ رَجُلًا بِالشَّامِ يُكَنَّى أَبَا مُحَمَّدٍ يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ فَقَالَ الْمُخْدَجِيُّ فَرُحْتُ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَاعْتَرَضْتُ لَهُ وَهُوَ رَائِحٌ إِلَى الْمَسْجِدِ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍفَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى الْعِبَادِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ.

আবদুল্লাহ ইবনু মুহায়রীয (র) হতে বর্ণিতঃ

কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি, যাকে মুখদাজী বলা হত, তিনি শাম দেশের এক ব্যক্তিকে (যার উপনাম আবূ মুহাম্মাদ) বলতে শুনেছেন যে, বিতর-এর নামায ওয়াজিব। মুখদাজী বললেন, আমি উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ)-এর কাছে গেলাম, তিনি তখন মসজিদে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁর পথ ‘আটকে’ দাঁড়ালাম। অতঃপর আবূ মুহাম্মাদ যা বলেছেন তাঁকে উহার খবর দিলাম।উবাদা (রাঃ) বললেন, আবূ মুহাম্মাদ ভুল বলেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেন। যে ব্যক্তি তা আদায় করবে এবং তুচ্ছ ধারণা করে তার কোন প্রকার হক নষ্ট করবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট এই প্রতিজ্ঞা রইল যে, তিনি তাঁকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন। আর যে তা আদায় করবে না, তাঁর প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গীকার থাকবে না। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে জান্নাতেও দাখিল করতে পারেন।(সহীহ, আবূ দাঊদ ৪২৫, নাসাঈ ৪৬১, ইবনু মাজাহ ১৪০১, আহমাদ ২২৭৪৫, আল্লামা আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন সহীহ আল জামে, ৩২৪৩)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৬০-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় বিতর নামাজ ওয়াজিব কি না—এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা এসেছে। কেনানা গোত্রের মুখদাজী নামে একজন ব্যক্তি শুনলেন, আবূ মুহাম্মাদ নামে একজন বলছেন, বিতর ওয়াজিব। তিনি উবাদা ইবনু সামিত রাঃ-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেন। উবাদা রাঃ বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন—আল্লাহ বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা আদায় করবে এবং তুচ্ছ মনে করে তার হক নষ্ট করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার আছে। আর যে তা আদায় করবে না, তার জন্য এমন অঙ্গীকার নেই; আল্লাহ চাইলে শাস্তি দেবেন, চাইলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এই হাদিসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব ও অবহেলার ভয় স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহ বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করেছেন।
  • ফরয নামাজের হক তুচ্ছ করা বিপজ্জনক।
  • নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে জান্নাতের অঙ্গীকারের কথা এসেছে।
  • বিতর প্রসঙ্গে ফরয নামাজের মূল গুরুত্ব স্মরণ করানো হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন