৯/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৩১৯ - তাবুক সফরে নামাজ একত্রে আদায় ও ঝর্ণার ঘটনা
মুসাফির ও মুকীম থাকা অবস্থায় দুই নামায একত্রে আদায় করা
তাবুক সফরে নামাজ একত্রে আদায়: নবীজির নির্দেশ মানার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩১৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৩১৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُمْ خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ تَبُوكَ فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ قَالَ فَأَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا ثُمَّ قَالَ إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللهُ عَيْنَ تَبُوكَ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يَضْحَى النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا فَلَا يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ فَجِئْنَاهَا وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلَانِ وَالْعَيْنُ تَبِضُّ بِشَيْءٍ مِنْ مَاءٍ فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ مَسِسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا فَقَالَا نَعَمْ فَسَبَّهُمَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنْ الْعَيْنِ قَلِيلًا قَلِيلًا حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ ثُمَّ غَسَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا فَجَرَتْ الْعَيْنُ بِمَاءٍ كَثِيرٍ فَاسْتَقَى النَّاسُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوشِكُ يَا مُعَاذُ إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ أَنْ تَرَى مَا هَاهُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا.
আবুত তুফায়েল ‘আমির ইবনু ওয়াসিলা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) তাঁকে বলেছেন, তাঁরা তাবুকের যুদ্ধের বৎসর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফরে বের হলেন। (সে সফরে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। (মু’আয) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন নামাজে দেরি করলেন, অতঃপর তিনি আসলেন এবং যোহর ও আসর একত্রে আদায় করলেন। আবার ভেতরে গেলেন, পুনরায় বের হলেন, তারপর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ তাবুকের ঝর্ণার কাছে পৌঁছে যাবে। তোমরা দিনের প্রথমাংশেই সেখানে পৌঁছাবে। যে আগে সে জায়গায় পৌঁছে, আমি না আসা পর্যন্ত সে ব্যক্তি যেন উহার সামান্যতম পানিও স্পর্শ না করে।অতঃপর আমরা সেখানে পৌঁছালাম। কিন্তু আমাদের আগেভাগে সেখানে দুজন লোক পৌঁছে গিয়েছিল। আর ঝর্ণা হতে অতি সামান্য পানি নির্গত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি এর পানি হতে কিছু স্পর্শ করেছ? তাঁরা দু’জনে হ্যাঁসূচক উত্তর দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে অনেক তিরস্কার করলেন এবং আল্লাহর যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু তাঁদের সম্পর্কে বললেন।তারপর তাঁরা আঁজলা ভরে অল্প অল্প করে কিছু পানি কোন এক পাত্রে জমা করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে পানিতে তাঁর উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুলেন এবং সে পানি ঝর্ণায় নিক্ষেপ করলেন যদ্দরুন ঝর্ণা হতে ফল্গুধারার মত অনেক পানি উঠতে লাগল। লোকজন ঝর্ণা হতে পানি পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন হে মু’আয, সম্ভবত তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করবে এবং তুমি এ ঝর্ণার পানি দ্বারা এই স্থানের অনেক বাগবাগিচায় পূর্ণভাবে পানি সেচ হতে দেখবে।
(সহীহ, মুসলিম ৭০৬)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৩১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে তাবুক সফরের কয়েকটি ঘটনা এসেছে। মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) জানান, তাঁরা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাবুকের বছরে সফরে বের হন। সে সফরে নবীজি যোহর-আসর এবং মাগরিব-ইশা একত্রে আদায় করতেন। একদিন তিনি নামাজে দেরি করে এসে যোহর ও আসর একত্রে পড়লেন, পরে মাগরিব ও ইশাও একত্রে পড়লেন। এরপর তাবুকের ঝর্ণা সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন—তিনি না আসা পর্যন্ত কেউ যেন পানি স্পর্শ না করে। দুজন আগে গিয়ে পানি স্পর্শ করলে তিনি তাদের তিরস্কার করেন। পরে অল্প পানি সংগ্রহ করে নবীজি মুখমণ্ডল ও হাত ধুয়ে তা ঝর্ণায় ফিরিয়ে দিলে পানি বেড়ে যায়। হাদিসটি সফরের নামাজ, নবীজির নির্দেশ মানা এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বরকতের দিক তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে যোহর-আসর ও মাগরিব-ইশা একত্রে আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
- নবীজির নির্দেশ মানা সাহাবিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- অনুমতি ছাড়া ঝর্ণার পানি স্পর্শ করায় দুজনকে তিরস্কার করা হয়।
- অল্প পানি আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষের উপকারের কারণ হয়েছে।
