১৭/২৪. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬০৩ - জিযইয়ার পশু বণ্টন ও আমানতের ব্যবহার

আহলে কিতাবের উপর ধার্য জিযইয়া

জিযইয়ার সম্পদ ব্যবহারে আমানত ও জনকল্যাণ

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬০৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِنَّ فِي الظَّهْرِ نَاقَةً عَمْيَاءَ فَقَالَ عُمَرُ ادْفَعْهَا إِلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَنْتَفِعُونَ بِهَا قَالَ فَقُلْتُ وَهِيَ عَمْيَاءُ فَقَالَ عُمَرُ يَقْطُرُونَهَا بِالْإِبِلِ قَالَ فَقُلْتُ كَيْفَ تَأْكُلُ مِنْ الْأَرْضِ قَالَ فَقَالَ عُمَرُ أَمِنْ نَعَمْ الْجِزْيَةِ هِيَ أَمْ مِنْ نَعَمْ الصَّدَقَةِ فَقُلْتُ بَلْ مِنْ نَعَمْ الْجِزْيَةِ فَقَالَ عُمَرُ أَرَدْتُمْ وَاللهِ أَكْلَهَا فَقُلْتُ إِنَّ عَلَيْهَا وَسْمَ الْجِزْيَةِ فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ فَنُحِرَتْوَكَانَ عِنْدَهُ صِحَافٌ تِسْعٌ فَلَا تَكُونُ فَاكِهَةٌ وَلَا طُرَيْفَةٌ إِلَّا جَعَلَ مِنْهَا فِي تِلْكَ الصِّحَافِ فَبَعَثَ بِهَا إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَكُونُ الَّذِي يَبْعَثُ بِهِ إِلَى حَفْصَةَ ابْنَتِهِ مِنْ آخِرِ ذَلِكَ فَإِنْ كَانَ فِيهِ نُقْصَانٌ كَانَ فِي حَظِّ حَفْصَةَ قَالَ فَجَعَلَ فِي تِلْكَ الصِّحَافِ مِنْ لَحْمِ تِلْكَ الْجَزُورِ فَبَعَثَ بِهِ إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمَرَ بِمَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِ تِلْكَ الْجَزُورِ فَصُنِعَ فَدَعَا عَلَيْهِ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارَ ৯৭১-قَالَ مَالِك لَا أَرَى أَنْ تُؤْخَذَ النَّعَمُ مِنْ أَهْلِ الْجِزْيَةِ إِلَّا فِي جِزْيَتِهِمْ.

আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে একবার জানালাম, সরকারি উটসমূহের মধ্যে একটা অন্ধ উটও রয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, অভাবী কাউকেও দিয়ে দিও। এটা হতে সে উপকার লাভ করতে পারবে। আমি বললাম, উটটি তো অন্ধ। তিনি বললেন, একে উটের দলে বেঁধে দিবে। এদের সাথে চলাফেরা করবে। আমি বললাম, কেমন করে এটা ঘাস খাবে? তিনি বললেন, এটা জিযইয়া না যাকাতের? আমি বললাম, জিযইয়ার। তিনি বললেন, তুমি এটাকে যবেহ করার ইচ্ছা করেছ নাকি? আমি বললাম, না, এতে জিযইয়া চিহ্ন বিদ্যমান। শেষে উমর (রাঃ)-এর নির্দেশে ঐ উটকে নাহ্র (যবেহ) করা হল।উমর (রাঃ)-এর নিকট নয়টি পেয়ালা ছিল। ফল বা ভাল কোন জিনিস তাঁর কাছে এলে ঐ পেয়ালাগুলো ভরে উম্মুল মু’মিনীনদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। সকলের শেষে তদীয় কন্যা উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ)-এর নিকট পাঠাতেন। কম পড়লে হাফসা (রাঃ)-এর হিস্যাতেই পড়ত। যা হোক, উক্ত অন্ধ উটটিকে ‘নাহর’ করার পর প্রথম উল্লেখিত পেয়ালাসমূহ ভরে উম্মুল মু’মিনীনদের কাছে পাঠানো হল। বাকি যা রইল তা রান্না করে মুহাজির ও আনসারদেরকে দাওয়াত করে খাওয়ালেন।(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন, অমুসলিম জিযইয়া প্রদানকারীদের নিকট হতে জিযইয়া হিসাবে পশু আদায় করা হবে না। তবে মূল্য ধার্য করে নগদ অর্থের বদলে পশু নিয়া যেতে পারে।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬০৩-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় একটি অন্ধ উটের ঘটনা এসেছে, যা জিযইয়ার পশুর মধ্যে ছিল। প্রথমে উমার (রা) বললেন, এটি কোনো অভাবী পরিবারকে দিয়ে দেওয়া হোক যেন তারা উপকার পায়। পরে জানা গেল উটটি জিযইয়ার চিহ্নযুক্ত। তখন তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলেন এবং শেষ পর্যন্ত উটটি নাহর করার নির্দেশ দিলেন। তার গোশত থেকে উম্মুল মু’মিনীনদের কাছে পাঠানো হলো এবং বাকিটা রান্না করে মুহাজির ও আনসারদের খাওয়ানো হলো। এই হাদিসে জিযইয়ার সম্পদ, জনকল্যাণ, আমানত এবং বণ্টনের সতর্কতা ফুটে উঠেছে। মালিক (র)-এর মন্তব্যে আরও এসেছে, জিযইয়া হিসেবে সরাসরি পশু নেওয়া হবে না; তবে মূল্য ধরে নগদের বদলে পশু নেওয়া যেতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জনসম্পদের ব্যবহার সতর্কতার সঙ্গে করা দরকার।
  • অভাবী মানুষের উপকারের দিক বিবেচনা করা হয়েছে।
  • জিযইয়ার সম্পদ বণ্টনে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের নমুনা পাওয়া যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন