১৭/২৭. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬১০ - পরিবার ও দাসদের পক্ষ থেকে ফিতরা
যাদের উপর সাদকা-ই ফিতর ওয়াজিব
সাদকা-ই-ফিতর কার পক্ষ থেকে দিতে হবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬১০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬১০
- حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ غِلْمَانِهِ الَّذِينَ بِوَادِي الْقُرَى وَبِخَيْبَرَ.৯৮৫-و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّ أَحْسَنَ مَا سَمِعْتُ فِيمَا يَجِبُ عَلَى الرَّجُلِ مِنْ زَكَاةِ الْفِطْرِ أَنَّ الرَّجُلَ يُؤَدِّي ذَلِكَ عَنْ كُلِّ مَنْ يَضْمَنُ نَفَقَتَهُ وَلَا بُدَّ لَهُ مِنْ أَنْ يُنْفِقَ عَلَيْهِ وَالرَّجُلُ يُؤَدِّي عَنْ مُكَاتَبِهِ وَمُدَبَّرِهِ وَرَقِيقِهِ كُلِّهِمْ غَائِبِهِمْ وَشَاهِدِهِمْ مَنْ كَانَ مِنْهُمْ مُسْلِمًا وَمَنْ كَانَ مِنْهُمْ لِتِجَارَةٍ أَوْ لِغَيْرِ تِجَارَةٍ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْهُمْ مُسْلِمًا فَلَا زَكَاةَ عَلَيْهِ فِيه.৯৮৬-قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ الْآبِقِ إِنَّ سَيِّدَهُ إِنْ عَلِم مَكَانَهُ أَوْ لَمْ يَعْلَمْ وَكَانَتْ غَيْبَتُهُ قَرِيبَةً وَهُوَ يَرْجُو حَيَاتَهُ وَرَجْعَتَهُ فَإِنِّي أَرَى أَنْ يُزَكِّيَ عَنْهُ وَإِنْ كَانَ إِبَاقُهُ قَدْ طَالَ وَيَئِسَ مِنْهُ فَلَا أَرَى أَنْ يُزَكِّيَ عَنْهُ৯৮৭- قَالَ مَالِك تَجِبُ زَكَاةُ الْفِطْرِ عَلَى أَهْلِ الْبَادِيَةِ كَمَا تَجِبُ عَلَى أَهْلِ الْقُرَى وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى النَّاسِ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنْ الْمُسْلِمِينَ.
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তাঁর ওয়াদিউল-কুরা ও খায়বার নামক স্থানে অবস্থানরত দাসদেরও ফিতরা আদায় করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন, এ বিষয়ে আমি সর্বোত্তম যা শুনেছি তা হল, যাদের খোরপোশ প্রদান করা জরুরী তাদের পক্ষ হতেও ফিতরা আদায় করতে হবে। মুকাতাব গোলাম, মুদাব্বার গোলাম এবং দাস, তারা উপস্থিত থাকুক বা অনুপস্থিত থাকুক, ব্যবসার উদ্দেশ্যে হোক বা না হোক, সকলের পক্ষ হতে ফিতরা আদায় করতে হবে। তবে শর্ত হল মুসলমান হতে হবে। আর অমুসলিম গোলামের ফিতরা আদায় করতে হয় না। [১]মালিক (রহঃ) বলেন, গোলাম পালিয়ে গেলে সে কোথায় আছে তা মালিকের জানা থাকলে অথবা জানা না থাকলে এবং গোলামের অনুপস্থিতকাল মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সীমিত হলে এবং তার বেঁচে থাকা ও ফিরে আসার ভরসা থাকলে মালিককে তার পক্ষে সাদকা-ই-ফিতর দিতে হবে। যদি সে পলাতক অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং তাকে ফিরে পাওয়া সম্পর্কে নিরাশ হয় তবে আমার মতে, তার জন্য মালিককে ফিতরা দিতে হবে না।মালিক (রহঃ) বলেন, শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের লোকের উপরই ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নর-নারী, আযাদ, গোলাম প্রত্যেক মুসলমানের উপরই রমযানের কারণে সাদকা-ই-ফিতর ওয়াজিব করেছেন। (গোলামের তরফ হতে তার মালিক তা প্রদান করবে।)
[১] অর্থের বিনিময়ে আযাদ করার চুক্তিকৃত গোলামকে মুকাতাব বলা হয়, আর আমি মারা গেলে তুমি আযাদ-এই ধরনের কথা যে গোলামকে বলা হয়েছে তাকে মুদাব্বার বলা হয়।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬১০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর আমল এসেছে। তিনি ওয়াদিউল-কুরা ও খায়বারে থাকা দাসদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতেন। এরপর মালিক (র) বলেন, যার খোরপোশ দেওয়া জরুরি, তার পক্ষ থেকেও ফিতরা দিতে হবে। তিনি মুকাতাব, মুদাব্বার ও দাসদের কথাও উল্লেখ করেন, তারা উপস্থিত থাকুক বা অনুপস্থিত থাকুক। তবে শর্ত হিসেবে মুসলমান হওয়ার কথা বলা হয়েছে; অমুসলিম গোলামের ফিতরা দিতে হবে না। পলাতক দাসের ব্যাপারেও তিনি কাছাকাছি সময় ও ফিরে আসার আশা থাকলে ফিতরা দেওয়ার কথা বলেছেন। বর্ণনার শেষে শহর ও গ্রামের লোক সবার উপর ফিতরার বিধান উল্লেখ হয়েছে, কারণ নবীজি প্রতিটি মুসলমানের উপর রমযানের কারণে সাদকা-ই-ফিতর ধার্য করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাদের খরচের দায়িত্ব নিজের উপর, তাদের পক্ষ থেকে ফিতরার আলোচনা এসেছে।
- দূরে থাকা মুসলিম দাসদের পক্ষ থেকেও ফিতরা দেওয়ার আমল পাওয়া যায়।
- শহর ও গ্রামের মুসলমানদের জন্য ফিতরার বিধান একইভাবে উল্লেখ হয়েছে।
